ওয়াশিংটনে আন্দোলনে নিস্ক্রিয়, কমিটিতে পদ পেতে সক্রিয় বিএনপির নেতারা

September 17, 2019 at 10:58 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

চলছে গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্মেলন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দলটির প্রবাসী নেতারা। তবে সক্রিয় নেতাদের সারা বছর আন্দোলন-সংগ্রাম বা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ ছিল না বলে অভিযোগ কর্মীদের।

অভিযোগ রয়েছে-নিজেদের স্বার্থে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা সাথে লিয়াজোঁ করে চলার। কর্মীদের দাবি, দলের স্বার্থে ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যারা কাজ করবে, তাদেরকেই যেন নতুন নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়।

জানা যায়, গতকাল সোমবার মেরিল্যান্ড বিএনপির সম্মেলন হয়েছে। আজ ওয়াশিংটনডিসিতে হচ্ছে এবং আগামীকাল বুধবার ভারজিনিয়া সম্মেলন।

অনুষ্ঠানগুলোতে অতিথি হিসেবে থাকছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন।

গ্রেটার ওয়াশিংটন বিএনপির কর্মীদের জানায়, তিন বছর আগে ২০১৬ সালে ৩১ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির কমিটি অনুমোদন পায়। ভারজিনিয়া ও মেরিল্যান্ডে কমিটি দেওয়া হলেও অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্রীয় বিএনপি। তবে এই কমিটির গুলো কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ছিল না তেমন কোন কর্মসূচি, নেতারা ছিল ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজোঁ করে চলতো বলেও অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।

একাধিক কর্মীরা জানায়, বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেখানেই রয়েছে, সেখানেই অবৈধ নির্বাচনসহ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি আন্দোলন করলেও অনেকটাই নিশ্চুপ ওয়াশিংটন ডিসির বিএনপির নেতারা। ওয়াশিংটন বিএনপির কাছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা থাকে- যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদাস্থ কর্মকর্তা, সিনেটর বা কংগ্রেসম্যানেদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং বাংলাদেশে মানবধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো তুলে ধরা। তবে এক্ষেত্রে পুরোটাই ব্যর্থ প্রবাসী নেতারা। এমনকি ছিল না শহীদ জিয়ার জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কোন কর্মসূচি।

নাম মাত্র কিছু প্রোগ্রাম করেছে ঘরোয়া ভাবে, যাও ছিল কেন্দ্রীয় নির্দেশনা। এছাড়া দুই একটি প্রোগ্রাম সিনেটরদের নিয়েও করেছে।

ক্ষোভ জানিয়ে ওয়াশিংটন বিএনপির সিলেট প্রবাসী জাহিদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জেলে রয়েছে। তারপরও কোন কর্মসূচি নিচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, বিগত ৩০ বছর ধরে এখানে আছি, বিএনপির এমন নিষ্ক্রয় অবস্থা কখনই দেখিনি। আশা করবে এবার এমন নেতৃত্ব আসবে, যারা দলের স্বার্থে ও নেত্রীর মুক্তির জন্য কাজ করবে।

বরিশালের নেত্রী ফাহিমা বিসসাস বলেন, দেশে জেল খেটে রাজনীতি করেছি, পুলিশের মার খেয়েছি। ওয়াশিংটন ডিসি বা প্রবাসীতে তো এই ধরণের ভয় নেই। তারপরও কোন নেত্রীর মুক্তির জন্য কোন আন্দলোন নেই।

এভাবে নামমাত্র একটি দল চলতে পারে না। নাম প্রকাশ না করে আরেক নেতা বলেন, বিএনপির নেতাকর্মী তারা নিজ স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। নিজ দলের কর্মী কাউকে আওয়ামী লীগ বা কাউকে জামাত বলে মিথ্যা প্রচারণা এবং নিজেদের মধ্য বিভাজনে ব্যস্ত ওয়াশিংটনে বিএনপির নেতারা।

এবিষয়ে ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সেক্রেটারি হোসেনের কাছে জানতে চাইলো উল্টো দোষটা কেন্দ্রের দিকে তুললেন। জানালেন, কেন্দ্র থেকে কোন কর্মসূচি নেই। আমরা আর কি করবো? তাই নিজেদের উদ্যোগে কোন কর্মসূচি নেয়নি।

এদিকে আমেরিকায় ফোবানা নামে বাংলাদেশেীদের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। সংগঠনটি দুইভাগে বিভক্ত, একটি অংশ আওয়ামী লীগ পরিচালিত, অন্যটি বিএনপি পরিচালিত। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হোসেন তিনি বিএনপির ফোবানায় কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে আওয়ামী লীগের ফোবানা অংশ নেয়। ফলে সাধারণ সম্পাদদের এমন দ্বিমুখি আচারণও কর্মীদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রেটার ওয়াশিংটন বিএনপির কর্মীদের দাবি, এবার সম্মেলনের মাধ্যমে এমন নেতৃত্বকে নিয়ে আসা হোক। যারা দেশের গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ও দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকবে এবং কর্মী বন্ধব হবে।

Print