রাজধানীজুড়ে বসানো হবে বিশেষ ক্যামেরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

September 12, 2019 at 8:19 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অপরাধী শনাক্ত করতে রাজধানীজুড়ে বসানো হবে বিশেষ প্রযুক্তির ক্যামেরা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে ‘সেফ সিটি’র আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিজিটাল সেবা ও কেস-ডায়েরি বিষয়ক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথমে রাজধানী এবং পরে দেশের সবগুলো সিটি করপোরেশনকেই সেফ সিটির আওতায় আনা হবে। জেলা শহরেও স্থাপন করা হবে বিশেষ ক্যামেরা।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র ঢাকার প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে বসবে উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা। এর ফলে যেকোনো অপরাধীর এনআইডি থেকে ছবি নিয়ে শনাক্ত করা যাবে তার অবস্থান।

মন্ত্রী বলেন, “শিগগিরই ‘সেফ সিটি প্রজেক্ট’ শুরু করতে যাচ্ছি। সেফ সিটি নিয়ে আজকে অনেক আলোচনা হয়েছে। প্রথমে ঢাকাকে সেফ সিটি করতে চাই। এরপর পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সবগুলো সিটি করপোরেশনকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

সেফ সিটি কীভাবে হবে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরের প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এসব সড়কে ১৪ থেকে ১৬ হাজার বিভিন্ন ধরনের ক্যামেরা লাগানো হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে শহরে অপরাধ কমে যাবে।

এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিকও কন্ট্রোল করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় যেভাবে যানজট বেড়ে চলছে তা এই উদ্যোগের ফলে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কোনো গাড়ি দিয়ে অপরাধ করলে তা শনাক্ত করার জন্য গাড়ির নাম্বার প্লেট দেখে এই ক্যামেরাগুলো শনাক্ত করতে পারবে।

৯৯৯ সেবা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জনপ্রিয় হয়েছে। সেবাগ্রহণে এ পর্যন্ত এক কোটি ৪২ লাখ মানুষ ৯৯৯-এ কল দিয়েছে। দেশের মানুষের মধ্যে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে এটিকে আরও জনপ্রিয় করা হবে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুল ইসলামকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৯৯৯-এ বর্তমানে জনবল ১৪২ জন। জনবল ৫০০ তে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে। এ পর্যন্ত যারা ৯৯৯-এ কল দিয়েছেন, তারা সকলেই সেবা পেয়েছেন। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ডিজিটাল দেশ গড়ার। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে ও দিক নির্দেশনায় ২০১৭ সালে ৯৯৯ সেবা চালু করা হয়।

মন্ত্রী জানান, সভায় ডিজিটাল জিডি (সাধারণ ডায়েরি) ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য এক সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। আপাতত হারানো সংক্রান্ত জিডি অনলাইনে করা যাবে। পরে বিস্তারিত এই প্রোগ্রামের আওতায় আসবে।

Print