একীভূত হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক

September 12, 2019 at 7:19 am

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) একীভূত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মতামত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি কৃষি ছাড়া ভিন্ন খাতে ঋণ না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে ব্যাংক দুটিকে।

কারণ ইতিমধ্যে অন্য খাতে বড় অংকের ঋণ বিতরণ করেছে এ দুই ব্যাংক। শুধু বিকেবি অকৃষি খাতে ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংকগুলোকে সেবার মান বাড়াতে বলেন। দুই কৃষি ব্যাংকে অকৃষি খাতে ঋণ না দেয়ার নির্দেশ দেন। বৈঠকের কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘মুনাফার জন্য নয়, সেবা দেয়ার জন্যই রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে পরিচালনা করা হচ্ছে। সেবা না দিতে পারলে একীভূত করা হবে। এক্ষেত্রে বিকেবি ও রাকাবকে একীভূত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’

সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্য ব্যাংকের পাশাপাশি বিকেবি ও রাকাবের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরা হয়।

বিকেবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া জানান, গত ২ বছরে এ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। আর অকৃষি খাতে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। আর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। বর্তমান ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা এবং আমানত রয়েছে ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিকেবির মূলধন ঘাটতি হচ্ছে ৮ হাজার কোটি টাকা।

অপরদিকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৫৪ ভাগ। এ ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ৫ হাজার ২০২ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৫ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের বৈঠকে অকৃষি খাতে ঋণের সমালোচনা করা হয়। এদিকে অকৃষি খাতের ঋণ নিয়ে চালানো এক জরিপের ফল মে মাসে প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

জরিপের ফল থেকে জানা যায়, কৃষকরা যে পরিমাণ ঋণ সুবিধা পান, তার ৬৩ শতাংশের জোগান দিচ্ছে এনজিও। মহাজন ও আত্মীয়স্বজন থেকে ধারকর্জ করেন ১০ শতাংশ। মাত্র ২৭ শতাংশ ঋণ যাচ্ছে ব্যাংক খাত থেকে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংক একীভূত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি তালিকা করেছে। প্রাথমিকভাবে চারটি সরকারি ব্যাংকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় ওই তালিকায়।

সেগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক। এছাড়া দেশে সরকারি-বেসরকারি-বিদেশি মিলিয়ে আরও ১৩ ব্যাংক আর্থিক অবস্থার অবনতির তালিকায় রয়েছে। ব্যাংকগুলো একীভূত করার বিষয়ে মতামত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, দুর্বল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান একীভূত করার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। সেজন্য একটি মার্জার নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বিভাগের সমন্বয়ে এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে সদস্য হিসেবে থাকছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এবং অফসাইট সুপারভিশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ওই কমিটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের কাছে দাখিল করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশের ব্যাংকিং খাতকে বাঁচাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক মার্জার নীতিমালা তৈরি করছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একীভূত করা নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) একটি জরিপধর্মী গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়, ‘৭২ শতাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা মনে করেন দেশে ব্যাংকের সংখ্যা কমাতে হবে। এক্ষেত্রে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মার্জার বা একীভূতকরণের পক্ষে মত দেন তারা। তবে তারা দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে আরেকটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত না করার পরামর্শ দিয়েছেন।’

ব্যাংক ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে ২৭টি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে একীভূত করে ১২টিতে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। পাহাড়সম ঋণের বোঝা নিয়ে ডুবন্ত প্রায় ব্যাংকিং খাতকে পুনর্গঠন করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরাতে সম্প্রতি এ মেগা পরিকল্পনা হাজির করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার গত সাড়ে ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এপ্রিল-জুন সময়ে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিকের পর থেকে সর্বনিম্ন। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে ব্যাংক খাত সংস্কার ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

Print