রাবিতে সাংবাদিককে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

September 10, 2019 at 5:42 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত এক সাংবাদিকের সিট জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হবিবুর রহমান হলে সাংবাদিকের সিট দখলে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজুল ইসলাম তাকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সাকিবুল হাসান আইন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। সে জাতীয় ইংরেজি দৈনিক এশিয়ান এজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। অভিযোগ ওঠা ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম মিনহাজুল ইসলাম। সে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

সাকিবের অভিযোগ, হবিবুর রহমান হলে ২২৪ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পায় সে। সোমবার রাত ৯টার দিকে বরাদ্দকৃত সিটে উঠতে গেলে মিনহাজসহ হল ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী তাকে বাঁধা দেয়। জোরপূর্বক সিট থেকে তার জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে সিট দখলে নেয় মিনহাজ। এসময় সাকিবকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে হল থেকে বের করে দেয় মিনহাজ। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাকিবকে মারতেও উদ্দ্যত হয় মিনহাজ। তবে মিনহাজ বিষয়টি অস্বীকার করলেও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের সভাপতি-সা. সম্পাদক হলে এসে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে বৈঠকে বসেন। ঘন্টাব্যাপী বৈঠক শেষে তারা বিষয়টি অমীমাংসিত রেখেই চলে যান।

মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘২২৪ নম্বর কক্ষে একটি সিট খালি হওয়ায় আমি আমার এক ছোট ভাইকে নিয়ে ওই কক্ষে যাই। পরে জানতে পারি হল প্রশাসন এক শিক্ষার্থীকে ওই কক্ষে বরাদ্দ দিয়েছে। তবে ওই কক্ষে আমার যাওয়া উচিত হয়নি।’

এর আগে, গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ৩৪৭ নম্বর কক্ষে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে হল প্রশাসন সিটে তুলে দেয়। পরে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান সাকিল জোরপূর্বক তাকে সিট থেকে নামিয়ে দেয়। এ নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষ সাকিলের কাছে জানতে চাইলে সাকিল হল প্রাধ্যক্ষের সাথে খারাপ আচরণ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে মীমাংসা করে দেয়।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘হলের প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়েছে। আপনারা প্রাধ্যক্ষ স্যারের সাথে কথা বলেন।’

হল প্রাধ্যক্ষ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছি। সাংবাদিকের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে যদি কেউ এরকম করে থাকে তাহলে হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।’

তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, আপনার কাছ থেকে আমি বিষয়টি শুনলাম। কিবরিয়া-রুনুর সাথে কথা বলে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। হল প্রাধ্যক্ষ্যের সঙ্গে কথা বলে কি করা যায় দেখছি।’

স/শা

Print