ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়-অনিয়মরোধে পশ্চিমাঞ্চল জিএম ঘুরছেন ছদ্দবেশে, বদলি কয়েকজন

September 8, 2019 at 8:23 am

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঈদ শেষ হয়ে গেছে প্রায় এক মাস হলো। কিন্তু রাজশাহী-ঢাকা রুটে এখনো ট্রেনের সিডিউল বিপির্যয় থামেনি। এমনকি বিরতিহীন বনলতাও থামছে চার-পাঁচটি স্টেশনে। অন্য ট্রেনকে পারাপারের জন্য লাইন ছেড়ে দিতে (ক্রসিং) প্রতিদিনই এভাবেই থামতে হচ্ছে বিরতিহীন বনলতাকেও। সিল্কসিটি, ধূমকেতু ও পদ্মা ট্রেন তো থামছে লোকালের মতো করে। এতে করে সঠিক সময়ে এই রুটে যাতায়াত করতে পারছে না ট্রেনগুলো। প্রতিদিনই দেড়-দুই ঘন্টা দেরিতে ঢাকা বা রাজশাহীতে পৌঁছাচ্ছে বিরতিহীন বনলতা থেকে শুরু করে অন্য তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনও। ফলে যাত্রী ভোগান্তি এখনো রয়েই গেছে।

তবে ঈদের মধ্যে যে সিডিউল বিপর্যয় নেমে এসেছিলো, সেখান থেকে অন্তত নব্বই ভাগ কমেছে বলে দাবি করছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। নতুন মহাব্যবস্থাপক হারুন-অর-রশিদের নানা উদ্যোগের ফলে এই বিপর্যয় অনেকটাই কমে এসেছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমনকি সিডিউল বিপর্যয়ের পাশাপাশি অনিয়মে থামাতে তিনি ছদ্দবেশে ঘুরছেন স্টেশন থেকে শুরু করে রেললাইনেও। এরই মধ্যে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতি ধরে তিনি বেশ কয়েকজনকে বদলি ও সাময়িক বরখাস্তও করেছেন।

রেলওয়ে কর্মকর্তা এও বলছেন, যত উদ্যোগই নেওয়া হোক না কেন ঢাকা-রাজশাহী রুটে ডাবল রেললাইন চালু না হওয়া পর্যন্ত কখনোই সিডিউল বিপর্যয় পুরোপুরি রোধ করা যাবে না। এরই মধ্যে যদি আবার ট্রেন লাইনচূত্য বা দুর্ঘটনায় পতিত হয়, তাহলে আবারো নেমে আসবে সিডিউলে মহাবিপর্যয়।

রাজশাহী রেলওয়ে সূত্র মতে, গত ঈদ-উল আজহার ঈদের মধ্যে ঢাকা-রাজশাহী রুটে ট্রেনের সিডিউলে যেন মহাবিপর্যয় নেমে এসেছিল। এই বিপর্যয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রতি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মাহব্যবস্থাপককে (জিএম) খন্দকার শহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন এবং প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি বণিককে বদলি করা হয়। এঁদের স্থলে তিনজন নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সিডিউল বিপর্যয় রোধে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন জিএম হারুন-অর-রশিদ।

রেলওয়ে সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে দুপুর একটা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া বনলতা ট্রেন প্রায় দুই ঘন্টা দেরিতে পৌছে রাজশাহীতে। গতকাল শনিবার সকালেও রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা একই ট্রেন প্রায় দেড় ঘন্টা দেরিতে পৌঁছে ঢাকায়। এভাবে প্রতিদিনই দেড়-দুই ঘন্টা দেরিতে বিরতিহীন এই ট্রেন চলাচল করছে ঢাকা-রাজশাহী রুটে।

এছাড়াও এই রুটে সিল্কসিটি, পদ্মা ও ধূমকেতু টেনগুলোর সিডিউল বিপর্যয় এখনো লেগেই আছে। এই ট্রেনগুলো ক্রসিং দিতে দিতে প্রায় লোকাল ট্রেনে পরিনথ হয়েছে। ফলে প্রতিদিন এই তিনটি ট্রেন এখন আট ঘন্টার নিচে যাতায়াত করতে পারছে না। সর্বশেষ গতকাল শনিবারও ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া পদ্মা ট্রেনটি রাজশাহী পৌঁছে অন্তত দুই ঘন্টা দেরিতে।

রেলওয়ে সূত্র আরো জানায়, এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ওয়েম্যান থেকে শুরু করে রেললাইনে কর্মরত কর্মচারীদের কড়া সতর্ক করে দিয়েছেন জিএম। পাশাপাশি ছদ্দবেশে ঘুরছেন স্টেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন লাইনে। এই ছদ্দবেশে ঘুরার সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি দেখে জিএমের নির্দেশে এরই মধ্যে রাজশাহী স্টেশনের স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রহনপুরের দুই স্টেশন মাস্টারকে গত শুক্রবার সন্ধ্যার পরে ছদ্দবেশে গিয়ে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেন জিএম। বদলির প্রক্রিয়া চলছে পাকশি বিভাগের সহকারী প্রকৌশলীকে। বঙ্গবন্ধু সেতু স্টেশনের কাছে ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী এ কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে থাকলেও এখনো ওই লাইন নিয়ে গাফলতির অভিযোগে তাঁকে বদলির নির্দেশ জিএম হারুন-অর-রশিদ।

জানতে চাইলে রাজশাহী স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিরতিহীন পদ্মাসহ অন্য তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন এখনো দেরি করে ছাড়ছে সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে। তবে ঈদের চেয়ে এখন অন্তত নব্বই ভাগ সিডিউল বিপর্যয় কমে এসেছে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ বলেন, ‘আমরা নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছি সিডিউল বিপর্যয়রোধে। কিন্তু ডাবল লাইন চালু না হলে সিডিউল বিপর্যয় রোধ করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই রুটে দ্রæত ডাবল লাইন চালু এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আশা করি এটিও হবে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেওলওয়ের জিএম হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমি আসার পরে এখানে বিভিন্ন বিষয়ে হাত দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরা চলা অনিয়ম ও অসঙ্গতিরোধে কখনো স্টেশনে আবার কখনো রেললাইনে ছদ্দবেশে যাচ্ছি। কারণ আমাকে অনেকেই চেনেন না। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করে সেই অনযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে করে সিডিউল বিপর্যয়রোধে অনেকটায় কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘রেললাইন বা যাত্রীসেবার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবহেলা বা অনিয়ম ছাড় দেওয়া হবে না। এর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাময়িক বরখাস্ত থেকে শুরু করে বদলিও করা হচ্ছে কাউকে কাউকে।’

স/আর

Print