সাপাহারে করলা চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকেই

August 21, 2019 at 6:27 pm

সাপাহার প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় আমচাষীগণ এবছর আমচাষে যেমন এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন, ঠিক তেমনটাই করলা চাষ করে অনেক কৃষকই স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবছর উপজেলায় ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমিতে করলার চাষাবাদ হয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হওয়ায় লাভের মুখ দেখছে করলা চাষীরা। করলা বিক্রি করে অনেকেই এখন স্বচ্ছলভাবে হাসি-খুশি জীবন-যাপন করছেন। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই এই উপজেলার চাষীরা করলা সবজি চাষে উৎসাহিত হয়ে তাদের হাইব্রীড আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে করলা চাষ করে স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে কিক্রি করে সংসারের খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা লাভ করতেন। পরবর্তীতে করলা চাষের খবর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে কাঁচা তরিতরকারীর ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন সাপাহারে। পরবর্তীতে এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার করলা চাষীদের সেন্টার হিসেবে সাপাহার-তিলনা পাকা সড়কের বাহাপুর মোড়ে গড়ে ওঠে মৌসুমী প্রতিদিনের জন্য ৩/৪ ঘন্টার এক অস্থায়ী বাজার। ভোর হলেই বিভিন্ন এলাকার করলা চাষীরা তাদের উৎপাদিত করলা নিয়ে চলে আসেন এই বাজারে এবং ক্রেতারা তাদের নিকট বিভিন্ন দামে ক্রয় করে মিনি ট্রাকযোগে সকাল ১০টার মধ্যেই রওয়ানা হয়ে যায় নিজ গন্তব্যে।

বর্তমানে প্রতি মণ করলা ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বাজার কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলেও অনেক চাষী মনে করছেন। প্রতিবছর আগষ্ট এর ১৫ তারিখ হতে অক্টোবরের ১৫/২০ তারিখ পর্যন্ত চলে এই মৌসুমী অস্থায়ী বাজার।

আমের পরে সবজি চাষেও এবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ চিনবে সাপাহারকে এমনটাই মনে করছেন উপজেলার অভিজ্ঞ কৃষকরা।
বুধবার সকালে সরেজমিনে ওই বাজারে গিয়ে প্রতি মণ করলা এক হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। করলার অস্থায়ী এই বাজারে এসে ঢাকার কওরান বাজারের আনোয়ার হোসেন নামের এক সবজি ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, সাপাহারের করলা সবজির গুণগত মান ভাল ও এখান থেকে করলা কিনে লাভ ভাল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার করলা রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন।

এলাকার স্থানীয় করলা চাষী আনারুল ইসলাম, ছয়ফুল ইসলাম ও আব্দুল মালেক সহ বেশ কিছু কৃষকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, অস্থায়ীভাবে উপজেলা সদরের বাহিরে এই স্থানে করলার বাজার গড়ে না উঠলে এখানকার চাষীরা এই হারে করলা চাষাবাদ করতেন না। বর্তমানে তারা সহ অনেকেই এখন করলা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন।
এই বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন এই বাজার হতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টন করলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, কয়েক বছর ধরে করলা চাষ এ উপজেলায় চাষীদের মাঝে নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার অনেকেই এখন দেশী, হাইব্রীড, সোনামুখীসহ বিভিন্ন জাতের করলা চাষাবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবছর উপজেলায় ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমিতে করলার চাষাবাদ হয়েছে। করলা ক্ষণস্থায়ী ফসল হলেও এবারে এর ব্যাপক ফলন হয়েছে, দামও রয়েছে কৃষকের মনের মত। আবহাওয়া আর কিছুদিন চাষীদের অনুকুলে থাকলে করলা চাষের মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে বলেও কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সাপাহার উপজেলার আমচাষীরা এবছর আম চাষে যেমন এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন ঠিক তেমনটাই করলা চাষেও বিপ্লব ঘটাবে বলে করলা চাষী ও উপজেলা কৃষি দপ্তর মনে করছেন।

 

স/শা

Print