পুঠিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শোক দিবস পালন না হলে ব্যবস্থা

পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট সকাল থেকে দিনভর জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে মিল রেখে উপজেলা প্রশাসন এ কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পালন না হলে সে সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত, বিভিন্ন প্রতিযোগীতা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও ১৫ আগস্টে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং প্রার্থনা করা হবে।

জাতীয় শোক দিবসের সকল কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উপজেলার সকল সরকারী-আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। সকাল ৯ টায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতির ওপর চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হবে। চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় তিনটি গ্রুপে বিভক্ত শিশু শ্রেনি হতে একাদশ শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করতে পারবে। এছাড়াও রচনা প্রতিযোগীতায়ও তিন গ্রুপে বিভক্ত তৃতীয় শ্রেণী হতে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স জামে মসজিদে শোক দিবসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগীতা হামদ ও নাত এবং হেফজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ থেকে কালো ব্যাচ ধারণ করে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করবে। এরপর জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে অডিটরিয়াম হল রুমে তার জীবনীভিত্তিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সুত্র মতে, পুঠিয়া উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক আলোচনা সভা, রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, হামদ্ ও নাত প্রতিযোগীতা এবং মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাতের আয়োজন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করানো হবে। এছাড়াও পৌরসভার আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ও শোকগাথা গান প্রচার করা হবে।

এদিকে বিভিন্ন রাজনেতিক দল সামাজিক সংগঠন নিজ নিজ উদ্দ্যোগে এ দিবস পালন করবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান জানান, উপজেলার প্রশাসন ছাড়াও একযোগে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্ব স্ব কার্যালয়ে কমসুচিগুলো পালন করবে। তিনি বলেন, সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন করার জন্য সরকারী বরাদ্দ রয়েছে। কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন না হলে সেই সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুঠিয়া পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম জানান, পৌরসভার তিন থেকে চারটি স্থানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার করা হবে। এছাড়াও পৌরসভায় শোক দিবস পালন করা হবে।

স/শা

Print