সিংড়ায় ভুয়া সনদ দিয়ে বিদ্যালয়ে চাকরি নেয়ার অভিযোগ

August 7, 2019 at 4:40 pm

সিংড়া প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়া উপজেলার সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. জোসনা খাতুনের বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) পদে মোটা টাকা উৎকোচ নিয়ে এই নিয়োগ দিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতপুকুরিয়া দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদে চাকরির আবেদন করেন মোছা. জোসনা খাতুন। এবং ২০ সেপ্টেম্বর একটি ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জমা দিয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে চাকুরীতে যোগদানও করেন তিনি। পরে একই বছরের ১০ নভেম্বর ওই শিক্ষিকার এমপিওভূক্ত হয়। এরপর থেকেই মোছা: জোসনা খাতুনের বিরুদ্ধে ভুয়া নিবন্ধন সনদ দিয়ে চাকরির অভিযোগ উঠে। ওই শিক্ষিকার চাকুরীতে জমাকৃত ৪র্থ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার রোল নং ১২২১০৬১৮ ও রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৮০০০০৪৩৫/২০০৮ ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে নিবন্ধনে ফেল পায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এবিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি দাতা সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নিয়ে আগের কমিটি এই শিক্ষিকাকে নিয়োগ দিয়েছে। পরে আমরা বিশেষ সূত্রে জানতে পারি তার নিবন্ধন সনদ ভুয়া। আর তার পর থেকে এভাবে চলে আসছে।
এবিষয়ে কথা বলতে ওই শিক্ষিকা মোছা. জোসনা খাতুনের মুঠোফোনে কল করা হয়। তিনি বলেন, নিবন্ধন সনদ সঠিক না হলে কিভাবে এতোদিন ধরে চাকুরী করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক বলেন, জাল নিবন্ধন সনদ জমা দিয়ে শিক্ষিকা জোসনা খাতুনের চাকুরী হয়েছে এটা সবাই জানে। এখন বলে কি লাভ? চাকুরী তো আর তার যাবে না।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. কামাল পাশা মুঠোফোনে বলেন, তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। আর কম বেশী সব প্রতিষ্ঠানেই কিছু সমস্যা থাকে। তবে এই শিক্ষিকার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল বরাবরই অভিযোগ উঠে। এটা কিভাবে নিয়োগ হয়েছে তা তার জানা নেই। আর এসব বিষয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে বের করবে বলে জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষিকার নিয়োগ তার সময়ে হয়নি। তাই তিনি এবিষয়ে কিছুই জানেন না।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুর রহমান বলেন, তিনি ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরির বিষয়ে অবগত নন। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/শা

Print