ক্লাসে পরীক্ষা, মাঠে পশু হাট !

August 7, 2019 at 11:01 am

দুর্গাপুর প্রতিনিধি:

ক্লাসে পরীক্ষা চলছে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির। বাইরে স্কুল মাঠে বসেছে পশুর হাট। হাটে চেঁচামেচিতে চলছে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা। সোমবার (০৫ জুলাই) রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কানপাড়ার বাজুখলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে এ হাট দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যান সমসের আলী কোন নিয়ম তোয়াক্কা না করে হাট বসিয়েছেন। নেই কোন ইজারাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাঠে সপ্তার শুক্রবার ও সোমবার হাট বসে। এছাড়া কোরবানি উপলক্ষে আগামী শুক্রবার ও শনিবার হাট বসবে এই স্কুল মাঠে। হাট চলার ফলে কমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেক অসুবিধা হয় ক্লাস পর্যন্ত যেতে। যদিও নেই কোন বিকল্প ব্যবস্থাও। এতে করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী কমতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারনা।

একাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবকরা জানান, শুধু ঈদকে কেন্দ্র করে হাট বসানো হয় না। প্রতি সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে স্কুল মাঠ দখল করে। স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেই না।

পাঁচুবাড়ীর এলাকার গরু বিক্রেতা আব্দুল হানিফ বলেন, কোরবানীর পশুর হাট স্কুল মাঠ বাসে পাশে করা যেতো। স্কুল মাঠে গুরুর হাট হয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনেক ছাত্র-ছাত্র গরুর ভয়ে স্কুলে আসতে চাই। তিনি আরো বলেন, এছাড়া সপ্তায় দুইদিন হাট হওয়ায় দোকানদারদের বাঁসের খুটি পুতে জায়গা দখল করা থাকে। ফলে স্কুলটির মাঠ খেলাধূলায় ব্যবহার করতে পরেনা শিক্ষার্থীর।

বাজুখলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক মোসা. মরিয় দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা চলছে। তবুও তোয়ক্কা নেই স্থানীয় চেয়ারম্যান ও হাট কমিটির। তাদের নিষেধ করা হয়েছে অনেক বার। তবুও তারা জোর করে পশু হাট বসিয়েছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি মুনছের আলী বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান সমসের আলীর চাপের মুখে আমি বাধ্য হয়েছি বিদ্যালয় মাঠে পশু হাট বসাতে। মাঠে পশু হাট বসাতে না দিলে সে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকিও দিয়েছে। তারা বিদ্যালয়কে হাট ইজারা বাবদ কোন অর্থ প্রদান করেননি। আমি তাদের বার বার হাট বসাতে নিষেধ করেছি।

চেয়ারম্যান সমসের আলী বলেন, আমরা হাটের টাকা পকেটে নেই না। সব টাকা মসজিদের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করি। তবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, স্কুল মাঠে হাট বসানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাকে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় কেউ অভিযোগ করেনি। এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

স/আ

Print