রাজশাহীর বাজারে মাছের সরবরাহ কম, পেয়াজ ও মরিচের দাম বৃদ্ধি

July 19, 2019 at 1:37 pm

হারুন অর রশীদ:

গত সপ্তাহের তুলনায় রাজশাহীর বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকায় মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আর রাজশাহীর পাশ্ববর্তী কিছু এলাকায় বন্যা প্লাবিত হওয়ায় যোগান কমেছে কাচা সবজিরও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে শবজির মুল্য বৃদ্ধির ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ীরা বলছেন চাহিদার সাথে যোগানের পর্যাপ্ততা না থাকায় অতিরিক্ত ব্যয় করে পণ্য কিনতে হচ্ছে তাদেরও। যার ফলে মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে রাজশাহীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এ তথ্য পাওয়া যায়।

বাজারে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক হারে। প্রতিকেজি মরিচের মূল্য গত সপ্তাহে ছিল মাত্র ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৭০ থেকে ২৩০ টাকায়। অন্য দিকে পেয়াজের মূল্য বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় যা গত সপ্তাহেও ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।

রাজশাহীর সাহেব বাজার ও নিউমার্কেট এলাকায় ঘুরে দেখা যায় বাজারে মাছের সরবরাহ গত সপ্তাহের চেয়ে কম রয়েছে। এক্ষেত্রে নদী ও বিলের পানি বৃদ্ধিকে কারণ মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমান বাজারে নদীর চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ১০০০ টাকার অধিক দরে।  এছাড়া নদীর বেলে মাছ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৫০০-৫৫০ টাকা,বোয়াল ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের মাছের মধ্যে রুই আকারভেদে কেজি প্রতি ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৬০ টাকা, মির্কা মাছ ১৬০ থেকে ১৭০, কই ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সিলভার মাছ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা,পাঙাশ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, মাঝারি শিং ও মাগুর ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা ,ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা ,কাতলা ২০০ থেকে ২৫০, দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা মোঃবাদশা বলেন  ইলিশের সরবরাহ কম । বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার নিয়ম থাকলেও সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারনে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না। ইলিশ বাজারে এলে অন্যান্য মাছের দর কিছুটা কমে।বর্তমানে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে।

রাজশাহীর সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, যেকোন কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত মুল্যে সবজি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। বাজার মনিটরিং না থাকায় অসাধু উপায় অবলম্বন করছেন বিক্রেতারা।

এদিকে কাচা সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায় মৌসুমী সবজির ন্যায় নিত্য সবজির মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা দরে। রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিল ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাচা সবজির অভাব দেখা দিচ্ছে বাজার গুলোতে। যার কারণে পাইকারী ব্যবসায়ীদের অধিক মূল্যে সবজি কিনতে হচ্ছে। এর ফলে সবজির মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তারা।

বর্তমানে বাজারে সবজির মধ্যে বেগুনের দর প্রতি কেজি লম্বা ও গোল বেগুন ৬০ থেক ৭০ টাকা কেজি, কাঁচা পেঁপের প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, ঢেড়স ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, করলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা,পটল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, শশা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মিস্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, কচু ৪৫ থেকে ৫০ টাকা , রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা , লালশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা এক সপ্তাহ আগের চেয়ে কেজিতে ৩-৫ টাকা বেশি। এছাড়া কাগচি লেবু ১০,দেশি লেবু ৮ টাকা,বড় লেবু ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী রেহান রহমান বলেন, প্রতি সপ্তাহেই মিলের বাজার করতে আসতে হয়। গত সপ্তাহে পেয়াজ মরিচের যে দাম ছিল তার হিসেব করে এসে ঠকে গেলাম। প্রায় দ্বিগুন দরে কিনতে হচ্ছে মরিচ।

অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগীর দাম। বাজারে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে, সোনালি ১৭০-১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগী ৩৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৫২০-৫৩০ টাকা। এছাড়া খাসি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মুদি দোকানে ভালো মানের মোটা চাল এখন ৩০ টাকা ,স্বর্ণা চাল ৩২ টাকা , আঠাশ ৩৬ থেকে ৪০ টাকা , মিনিকেট চাল ৪৬ থেকে ৫৫ টাকা, নাজিরশাইল ৬০ থেকে ৬৬ টাকা ও পলাও চাল এর মধ্যে চিনি গুড়া ৯০ থেকে ১০০ টাকা ,কালজিরা ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

বাজারে লাল ডিম ৩৬ টাকা ,সাদা ডিম ৩৫ টাকা ,চিনি ৫৬ টাকা , সোয়াবিন তেল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা লিটার, সরিষা তেল ১২০ টাকা ।

Print