নারী-শিশুর নিরাপদ সমাজের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

July 11, 2019 at 9:13 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাষ্ট্রের পাশাপাশি সকল শ্রেণী পেশার মানুষসহ প্রতিষ্ঠানের কার্যকর উদ্যেগ ও ভূমিকায় সমাজে নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ ও মানবিক সমাজ বির্নিমান হবে।

আজ (১১ জুলাই) বিকাল ৫ ঘটিকায় রাজশাহী মহানগরির সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে রাজশাহীর সচেতন তারুণ সংগঠনগুলোর আয়োজনে ‘নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ ও মানবিক সমাজের দাবিতে মানববন্ধনে বক্তরা উক্ত কথা বলেন।

উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্রের আয়োজনে এতে অংশগ্রহণ করেন রাজশাহীর তরুণ সংগঠন সূর্যকিরণ বাংলাদেশ, স্বপ্নপুরণ স্কুল, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব রাজশাহী, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব নর্থব্যাঙ্গল, লিও ক্লাব, সেভ দা নেচার এন্ড লাইভ সোসাইটি, রাজশাহী সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ১৪টি সংগঠন।

মানববন্ধনে তরুণরা বক্তরা বলেন- দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ যে হারে বেড়ে চলেছে, তাতে আমরা দিনে দিনে লজ্জায় এবং তীরোষ্কারের এক জাতিতে পরিনত হচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সামাজিক অনাচার, মানুষে মানুষে সম্পর্কের অবনতি, জীববৈচিত্র্য এবং প্রকৃতির প্রতি মানুষের যে নির্দয় আচরণ, নারী ও শিশুর প্রতি যে সহিংসতা তা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। আমরা তরুণরা এই সমাজ চাইনা। আমরা বিশ্বের বুকে এক সম্মানিত জাতি হিসেবে মর্যাদা পেতে চাই। আমরা শুধু অনিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারনে নিজের শান্তি ভুলুষ্ঠিত হতে দিতে পারিনা। অর্থনৈতিক আগ্রাসনের কারনে আমাদের সাংস্কৃতিও আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। মানবিকতা কমে যাচ্ছে। মানবিক সমাজে কখনো কোন নারী ও শিশুর মর্যাদার হানি হতে পারেনা, হয় না। আমরা এমন একটি সমাজ, দেশ চাই যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে থাকবেন। আমরা সবাই নিরাপদে সম্মানের সহিত থাকতে চাই। নারী ও শিশুর জন্য চাই নিরাপদ ও মানবিক সমাজ।

তরুণরা আরো বলেন- ভয়াবহ একসময়ে আমরা এখানে সমেবেত হয়েছি। আমাদের আর মেনে নেয়ার মতো শক্তি নেই। আমরা আর মানতে চাইনা। বাংলাদেশের মানচিত্রে নারী ও শিশুর প্রতি যে সহিংসতা, তা আর মেনে নেয়া যায়না।

মানববন্ধনে নিজেদের দাবি ও মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন, বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি কেন্দ্রর সদস্য তহুরা খাতুন লিলি। প্রবন্ধে বলা হয়- বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যে জানা যায়-এ বছরের ৬ মসেই ২০৮৩ জন নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৩ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৩ জনকে। ছয়মাসেই নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩১ জন। গণধর্ষণ, ধর্ষণের পরে হত্যাসহ অন্যান্য নির্যাতনের হারও অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। গত ছয়মাসে বাংলাদেশে যে সংখ্যক নারী ও কন্যা শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে তা স্বাধীন বাংলাদেশে এর আগে হয়নি। আমরা জেনেছি একজন নারী শিশু নির্যাতনকারী দোষ শিকার করার পরেও আইনি জটিলতার কারনে ছাড় পেয়ে যায়। প্রভাবশালীদের ইশারায় আইন তার নিজস্বগতিতে চলতে পারেনা। ন্যায়বিচারের মারাত্বক সংকট আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলছে।

বক্তরা দাবি করেন-সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারনে আমাদের মন মানসিকতা ও মনসতত্বের নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। যার ফলে সমাজে মানবিক দিকগুলো সংকটে পড়েছে।নারী শিশুর প্রতি যে নির্দয় পাশবিক আচরণ আমরা দেখছি-তারই প্রমাণ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, রাজশাহী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, বারসিকে আঞ্চলিক সমন্বয়কারি শহিদুল ইসলাম, সেভ দা নেচারের সভাপতি মিজানুর রহমান, দিনের আলো হিজরা সংগঠনের সভাপতি মোহনা, বিইসিডিপিসির সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফি, লিও ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হামিদসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীগণ সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলে-

১। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রকাশ্যে মৃত্যু দন্ডের আইন চাই ।

২। ধর্ষক নিজে শিকার করলে ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করতে হবে।

৩। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল প্রতিষ্ঠানের মানবিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

৪। আমাদের সাংস্কৃতি রক্ষায় সাংস্কৃতিক আগ্রাসণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৫। গ্রামসহ সকল কমিউনিটি পর্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে কার্যকর সচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

স/অ

Print