ক্লাস বাদ দিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীরা: তাদের বুঝালেন রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ

July 10, 2019 at 11:55 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অবাধ ঘোরাফেরার চিত্র উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। নগরীর পদ্মা গার্ডেন, মুক্ত মঞ্চ, সীমান্ত অবকাশ, সীমান্ত নোঙ্গর, লালন শাহ পার্ক, টি-বাঁধসহ বিভিন্ন বিনোদন স্পটগুলোতে তাদেরকে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। এদের বেশিরভাগই উঠতি বয়সের ছেলে মেয়ে।

ক্লাসে না গিয়ে ওইসব স্পটে শিক্ষার্থীরা আড্ডায় মগ্ন হচ্ছে। প্রকাশ্যে ধূমপান ছাড়াও জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন আপত্তিকর ঘটনায়। যা দেখে উদ্বিগ্ন হচ্ছে সাধারন মানুষ। দেখা গেছে, এদের বেশিরভাগই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনীর শিক্ষার্থী।

এনিয়ে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। তবে এ বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানের। এমন কাণ্ড থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রাখতে গতকাল মঙ্গলবার কলেজ চলাকালে নগরীর পদ্মাপাড়ে গিয়েছিলেন দেশ সেরা রাজশাহী কলেজের এই অধ্যক্ষ।

এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও পেয়ে যান। তাদের এমন কাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান হবিবুর রহমান। শিক্ষার্থীদের ধরে ধরে বোঝান, ক্লাস-পড়ার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক বারিক মৃধা, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক রুবাইয়াত-ই-আফরোজ, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে, রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষের এমন কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচক বলছেন বিনোদন কেন্দ্রে আসা লোকজন। অন্য কলেজে অধ্যক্ষদেরও এইভাবে সচেতনতায় নামার আহ্বানও জানান তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছেন, অবাধে ঘুরে বেড়ানো শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ বাইরে থেকে আসা। অভিভাবকদের নজরদারি না থাকায় পড়ালেখায় ফাঁকি দিয়ে ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়াচ্ছে এরা। কেউ কেউ সুযোগ বুঝে ইউনিফর্ম খুলে রাখছে ব্যাগে। বিশেষ করে ক্লাস চলাকালীন নগরীর বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে সময় কাটাচ্ছে এসব শিক্ষার্থীরা। এমনকি কলেজ-স্কুলের ইউনিফর্ম পরে যুগল আড্ডা দিতেও দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

আরও একান্তে সময় কাটাতে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা এবং ভদ্রা পার্ক বেছে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এসব স্থানে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীরা অসামাজিক কাজেও জড়িয়ে পড়ছে। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন ঘুরতে আসা বিনোদনপ্রেমীরা।

rajshahi01.jpg

এসব শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশ রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ এবং নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট,শাহ্ মখদুম কলেজ শিক্ষার্থীসহ বাদযায়নি নগরীর মসজিদ মিশন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাও।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তারা একান্তে সময় কাটানোর জন্য নিরাপদ জায়গা হিসেবে পদ্মাপাড় বেছে নিয়েছে। বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী এখানে সময় কাটায়। অভিভাকরা বিষয়টি টেরই পান না।

এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, প্রতিটা অভিভাবককে খোঁজ রাখতে হবে তাদের ছেলে বা মেয়েটা স্কুল-কলেজে গেল কি-না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে শিক্ষার্থী অনুযায়ী খোঁজ রাখতে হবে। ১৫ জন শিক্ষার্থীর দেখভালের জন্য একজন শিক্ষককে যদি গাইড গিসেবে রাখলে ভালো হয়। সেই শিক্ষককের কাছ থেকেই ওই সব শিক্ষার্থী সম্পর্কে জানা যাবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ক্লাসে গিয়ে নোটিশ করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে মাইকিং করতে হবে কোনো শিক্ষার্থী কলেজ ড্রেস পড়ে বা না পড়ে ক্লাস চলাকালীন ওই সব স্থানে অবস্থান করতে পারবে না। এটি হলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষার্থীদের পদ্মা পাড়ে ঘুরতে যাওয়ার বিসয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, তাদের নৈতিকার অবক্ষয় হচ্ছে। তারা পড়া-লেখাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। লেখা-পড়ার মূলস্রোত থেকে তারা দূরে সরে যাচ্ছে। যার ফলে তারা মাদকা, সন্ত্রাসের পথ বেছে নিতে পারে। আমি মনে করি এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের এই অবাধ মেলামেশায় সামাজিক অবক্ষয় বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর শিক্ষাবিদরা। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিভাবক ও প্রশাসনকে কঠোর হবারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

Print