চাঁদাবাজির অভিযোগ ঢাকতে দুর্গাপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কাণ্ড

ফলোআপ:

July 10, 2019 at 8:29 pm

দুর্গাপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুরের আলীপুর মডেল কলেজে চাঁদার টাকা নেননি বলে এবার জোরপূর্বক শিক্ষক-কর্মচারিদের কাছ থেকে রেজুলেশনে স্বাক্ষর নিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। বুধবার দুর্গাপুর আলীপুর মডেল কলেজে অধ্যক্ষের ডাকা বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দুর্গাপুরের আলীপুর মডেল কলেজে শিক্ষক-কর্মচারিদের কাছ থেকে মান্থলি পেমেন্ট ওর্ডার (এমপিও) বেতন বিলে স্বাক্ষর নিতে সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রায় কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগের খবর সিল্কসিটিনিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে তোপের মুখে পড়েন কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষ। ওই ঘটনা ঢাকতে ও মিথ্যা প্রমাণ করতে কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বুধবার বেলা ২টায় কলেজে বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে কলেজের সকল শিক্ষক-কর্মচারি উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিত ছিলেন না কলেজের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। বৈঠক চলাকালীন কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম শিক্ষক-কর্মচারিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, চাঁদার টাকা তোলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এখন আপনাদের কাছ থেকে টাকা নেইনি, এটা প্রমাণ করতে হবে। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম শিক্ষক-কর্মচারিদের কাছে কোন টাকা নেননি মর্মে বৈঠকে রেজুলেশনে জোরপূর্বক সকল শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন।

বৈঠক শেষে আলীপুর মডেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ টাকা নিয়েছেন অথচ রেজুলেশনে মিথ্যা স্বাক্ষর দিতে হলো ‘তিনি কোনো টাকা নেননি।’ শিক্ষকরা বলেন, স্বাক্ষর করা ছাড়া উপায় নাই। বৈঠকে অধ্যক্ষের ঘোষণা, যে স্বাক্ষর করবে না, তার এমপিওর বিলে সভাপতি ও অধ্যক্ষ স্বাক্ষর করবে না। বিধায় জোরপূর্বক রেজুলেশনে স্বাক্ষর বাধ্য হলেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম বলেন, কারো কাছে জোর করা হয়নি। বৈঠকে সবাই ইচ্ছাকৃত স্বাক্ষর করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারিরা কোন চাঁদার টাকা দেননি।

প্রসঙ্গত, দুর্গাপুর আলীপুর মডেল কলেজটি ২০০৪ সালে তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ নাদিম মোস্তফার জোর তদবিরে একাডেমিক স্বীকৃতি না পেলেও এমপিও হয়। কলেজটি এমপিও হলেও একাডেমিক স্বীকৃতি না থাকায় আইনি জটিলতায় শিক্ষক-কর্মচারিরা বেতন উঠাতে পারছিলেন না। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ালে গত বছর উচ্চ আদালত থেকে এমপিওভূক্তির দিন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আপিল আবেদন করা হয়। তবে গত বছর পুনরায় আদালত রায় দেন শিক্ষক-কর্মচারিদের পক্ষে। এরপর মন্ত্রণাণলয় থেকে বেতন ছাড়ের জন্য শুরু হয় রশি টানাটানি। পরে মান্থলি পেমেন্ট ওর্ডার (এমপিও) বেতন বিলে স্বাক্ষর নিতে প্রায় ৩৬জন শিক্ষক-কর্মচারিদের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করেন কলেজ অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। কলেজটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সহযোগিতায় এই টাকা আদায় করা হয়।

স/শা

Print