সাপাহারে শেষ পর্যন্ত ৩০০ কোটি টাকার আম বেচা-কেনার প্রত্যাশা

July 10, 2019 at 4:46 pm

সাপাহার প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলা এখন আমের রাজধানীতে পরিণত হয়েছে। এ উপজেলায় চলছে এখন আম বাণিজ্য। গড়ে প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হচ্ছে। এবার শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আমের বাণিজ্য হবে বলে আম ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি কার্তিক সাহা এবং সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন।

আজ থেকে অন্তত ১০ বছর আগে এই উপজেলায় বেশ কয়েকজন কৃষক তাদের ধানের উঁচু জমিতে ধান চাষাবাদের পরিবর্তে হাইব্রীড জাতীয় আম্রপলী আমের চাষ করেন। ছোট ছোট এ সব গাছ রোপনের এক বছর পর হতেই গাছে আম ধরতে শুরু করে এবং আমের গুনগত মান অন্যান্য আমের তুলনায় বেশ ভাল হওয়ায় বাজারে বেশ চড়া দামেও বিক্রি হয়। সে থেকে একের পর এক কৃষক দিনদিন তাদের ধান চাষের জমির সংখ্যা কমিয়ে আম চাষে মনোনিবেশ করতে থাকে। বর্তমানে সাপাহার উপজেলায় প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে এই আমের চাষ করা হয়েছে।

গত বছর আমের বাজারে বেশ মন্দা গেলেও এবছর আমের বাজার বেশ চড়া। বর্তমানে প্রতিমণ রুপালী (আম্রপালী) আম ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এবছর এ উপজেলার কৃষকরা ধানচাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। কিছুটা হলেও তাদের সে ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন আমে। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের একমাস অতিবাহিত হলেও কাঙ্ক্ষিত কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কৃষকরা আমন আবাদ ছেড়ে দিয়ে প্রতিযোগীতামুলকভাবে তাদের আমনচাষাবাদের জমিতে আম গাছ রোপণ করছেন।

সাপাহারের কৃষকরা যে হারে আমের বাগান করে চলেছেন তাতে করে আগামী দু’এক বছরে হয়ত এই উপজেলায় ধান চাষের জমি থাকবে না বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। বর্তমানে সাপাহার উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী পোরশা, পত্নীতলা, ধামইরহাট উপজেলার আম কেনা-বেচা হচ্ছে সাপাহারে। গত কয়েক বছর থেকে সাপাহারে আমের বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে উঠলেও এবছর তার পরিধি প্রায় দ্বিগুন হারে বেড়ে গেছে। দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজধানী ঢাকা, ফরিদপুরের মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিং, বরিশাল, ফেনি, নোয়াখালি, কুমিল্লাহসহ বেশ কিছু এলাকা থেকে শত শত আম ব্যাবসায়ী আসছেন নওগাঁ জেলার সাপাহারে।

ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী জানান, সাপাহার উপজেলার হাসপাতালের মোড় হতে গোডাউনপাড়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেড় শতাধিক আমের আড়ত গড়ে উঠেছে। আড়তগুলো মেইন রাস্তার উভয় পার্শ্বে হওয়ায় প্রতিদিন সকাল ৯ টা হতে বেলা ৩টা পর্যন্ত রাস্তায় জ্যাম লেগে থাকায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও জরুরী কাজে নিয়োজিত এ্যাম্বুলেন্স, বিভিন্ন অফিসের গাড়ী ও পথচারীরা পড়ছেন বিপাকে। এই দুই কিলোমিটার রাস্তা পার হতে তাদের সময় লাগছে ২ থেকে আড়াই ঘন্টা।

সাপাহারে এবারে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আমের বাণিজ্য হবে বলে আম ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি কার্তিক সাহাসহ অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।

বর্তমানে সাপাহারে আমের বাণিজ্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ভবিষ্যতে এ বাণিজ্য কেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক বাজারে রুপলাভ করার জন্য সর্বস্তরের ব্যাবসায়ী ও বাগান মালিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, আমের বাজার সরিয়ে সদর হতে অন্তত ৫কিলোমিটার দূরে ৫/৭ একর জমি লিজ গ্রহণ করে সেখানে আম কেনা-বেচা করতে হবে।

স/শা

Print