সিংড়ায় ভিজিডির ২২ বস্তা চাল বিক্রি করলেন চেয়ারম্যান, মেম্বার-সচিব

তদন্ত কমিটি গঠন

June 12, 2019 at 6:28 pm

সিংড়া প্রতিনিধি:
নাটোরের সিংড়া উপজেলার শুকাশ ইউনিয়নের ২২ জন উপকারভোগী সদস্যের ২২ বস্তা ভিজিডি চাল বিক্রি করলেন ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ও সচিব মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে শুকাস ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে ভিজিডির ২২ বস্তা চাল কিনে নিয়ে যাওয়ার পথে বামিহাল হাসপাতালের সামনে থেকে দুটি অটো ভ্যানসহ এই চাল উদ্ধার করেন সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলাম ও স্থানীয় জনগণ। পরে বিকেল ৫টায় সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত ২২ বস্তা চালের মধ্যে ১৯ বস্তা ১৯ জন উপকারভোগী সদস্যের মাঝে বিতরণ করেন। আর অবশিষ্ট ৩ বস্তা চাল ওই ইউনিয়নের স্টোর রুমে জমা রাখেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সুকাশ ইউনিয়নের ওই ২২ জন উপকারভোগী সদস্যর নাম ভুয়া। আর এর আগেও এই কার্ডগুলোর চাল একাধিকবার উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান উপকারভোগী সদস্যরা।

সিংড়া উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে উপজেলার শুকাস ইউনিয়নের ২৪৭ জন উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে কার্ড প্রতি ৩০ কেজি করে ২৪৭ বস্তা ভিজিডি চাল বিতরণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ওইদিন ২২৫ বস্তা চাল বিতরণের পর অবশিষ্ট ২২ বস্তা চাল পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে বিতরণেন জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ও সচিব মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ২২ বস্তা ভিজিডি চাল বিতরণ না করে মঙ্গলবার (১১ জুন) দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সোহরাব হোসেনের নির্দেশে বিক্রি করেন ইউপি সচিব মিজানুর রহমান। পরে বামিহাল হাসপাতাল এলাকা থেকে সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় জনগণ দুটি অটো ভ্যান থেকে ২২ বস্তা ভিজিডি চাল উদ্ধার করেন। পরে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত চাল উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে বিতরণ করেন। আর এর পর থেকেই ভিজিডির চাল বিক্রির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এবিষয়ে ইউপি সচিব মিজানুর রহমান বলেন, চাল অনেক দিন ধরে পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। তাই তিনি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এর নির্দেশে বিক্রি করেছেন।
এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই।

এবিষয়ে ওই ইউনিয়নের ট্যাক অফিসার সোলায়মান হোসেন বলেন, অবশিষ্ট ২২ বস্তা চাল পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ২২ জন উপকারভোগী সদস্য উপস্থিত না হওয়ায় তা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এই চাল বিক্রির খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং চাল উদ্ধার করে ইউএনও’র সহযোগিতায় তা বিতরণ করা হয়।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, চাল উদ্ধার করে উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আর ওই ২২ জন উপকারভোগীর অনেকেই এর আগে কোনোদিন ভিজিডির চাল পাননি বলে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স/শা

Print