নওগাঁর সর্ববৃহৎ আমের বাজার এখন সাপাহারে

June 12, 2019 at 6:26 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁ সাপাহার উপজেলায় আম কেনা-বেচায় প্রায় দুই শতাধিক আমের আড়ৎ গড়ে ওঠেছে। উপজেলার আমের রাজা রুপালী এবং আমরুপালী বাজারে উঠতে আরো কিছুদিন দেরি। বাজারে ইতোমধ্যে গোপালভোগ, খিরশাপাতি, হিমসাগর ও নেংড়া ও গুটিজাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। রাস্তার দু’পার্শ্বে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আমের আড়ৎ গড়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, নোয়াখালী, ফেনি, কুমিল্লাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে আম ব্যাবসায়ীরা সাপাহারে আমের আড়ৎ গড়ে তুলেছেন এবং প্রতিদিন হাজার হাজার মণ আম কেনা-বেচা হয় এসব আড়তে।

বর্তমানে বাজারে যে পরিমাণ আম কেনা-বেচা হচ্ছে রুপালী আম বাজরে নামলে এর চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাবে। নওগাঁ জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ আমের বাজার এখন সাপাহার উপজেলায়। তাই আমে কোন প্রকার কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ মেশানো না হয় এবং দেশের সকল স্থানে সাপাহার উপজেলার আমের সুনাম আসছে।

এজন্য আম বাজার সমিতির মিটিংএ সকল আড়ৎদারদের বলা হয়েছে, আম ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্রী কার্তিক শাহা, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল, মাহফুজুর রহমান বাবু চৌধুরী, সাংগঠনিক রিফাত হোসেন জানিয়েছেন। এছাড়া আম বাজার যেন যানজটের সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রতিদিন প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করে চলেছে।

এদিকে আম বাগানের মহাজনরা জানিয়েছেন, উপজেলার কৃষকগন এবারে ধানের আবাদে মূল্য বিভ্রাটে কিছুটা হিমশিম খেলেও আমের বাজার ভাল থাকায় ধানের ক্ষতি কিছুটা হলেও আমে পুষিয়ে নিতে পারবে।

এবিষয়ে উপজেলা সদরের বাগান মহাজন সাইদুর রহমান বলেন, এবারে ধান চাষ করে উপজেলার অনেকেই নিঃস্ব, তবে আমাদের আম বাগান থাকায় ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। বর্তমানে আমের বাজার দর অনেকটাই আম চাষীদের অনুকুলে। বাজারে এখন প্রতিমন নেংড়া আম বিক্রি হচ্ছে ১৬শ’ থেকে ২ হাজার টাকা দরে। খিরশা, গোপালভোগ ও হিমসাগর আম বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে। বর্তমান আমের বাজার হিসেবে রুপালী আম ৩ হাজার টাকার উপরে থাকবে এবং এবার প্রায় শতাধিক কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হবে বলে বাগান মহাজন ও আম ব্যাবসায়ীগণ জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার মজিবর রহমান বলেন, সাপাহারে প্রায় পাচঁ হাজার হেক্টোর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৭ মেট্রিক টন, আম উৎপাদন হিসেবে সারা সাপাহার উপজেলা এবারে ৮০ থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন আমের উৎপাদন হবে। বর্তমানে বাজারে প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার মেট্রিক আম কেনা-বেচা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

স/জি

Print