বাঘায় অধিগ্রহণ ছাড়াই খাল খনন: অভিযোগের পরও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

May 26, 2019 at 10:05 pm

বাঘা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘায় ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়াই চলছে খাল খননের কাজ। এর বিরুদ্ধে আদালতে চারটি মামলা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রোববার দুপুরে কাগজপত্র দেখাতে এসে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে ফিরে গেছেন জমির মালিকরা। ফলে জমির মালিকরা হতাশার মধ্যে পড়েছেন।

জানা যায়, মোশিদপুর থেকে নওটিকা আরিফপুর পর্যন্ত ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প অনুমোদন হয়। এ অনুমোদন প্রকল্প সম্পূর্ণটা ধানী জমি। জমির মালিকদের কিছু না জানিয়ে এবং কর্তৃপক্ষ ভূমি অধিগ্রহণ না করে প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে খাল খননকাজ শুরু করে। তারপর জমির মালিক তমেজ উদ্দিন, মোজাহার হোসেন, আবুল কাশেম ও রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে রাজশাহীর আদালতে পৃথকভাবে ৪টি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আদালত ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ প্রদান করেন। তারপরও খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে শনিবার এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া খাল খনন বন্ধে মানববন্ধন করেন জমির মালিকরা। তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঘা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় জমির মালিকদের নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলা হয়। জমির মালিকরা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে রোববার দুপুরে দেখা করতে গিয়ে না পেয়ে ফিরে যান। ফলে জমির মালিকরা হতাশার মধ্যে পড়েছেন।

এ বিষয়ে চাকিপাড়া গ্রামের একরামুল হক, চন্ডিপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামের আশরাফুল ইসলাম, মুশিদপুর গ্রামের আফছার আলী, জামাল হোসেনে, ঝর্ণা খাতুন, জোৎস্না খাতুন, আনজেরা বেগম, আবুল কাশেম, রহিমা বেগম, মাজদার রহমান, আবদুল গনিসহ শতাধিক জমির মালিক অভিযোগ করে বলেন, আমরা জমির কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সম্পূর্ণ কাগজপত্র দেখানোর জন্য অফিসে যাই। কিন্তু তাকে না পেয়ে ফিরে এসেছি।

জমির মালিক ও মামলার বাদি তমেজ উদ্দিন, মোজাহার হোসেন, আবুল কাশেম ও রবিউল ইসলাম জানান, তাদের রের্কডকৃত ভোগ দখলীয় সম্পত্তির উপর প্রায় ৩৫ বছর আগে খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় সম্পত্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পর তারা খাল খনন বন্ধ রাখে।

তারা আরো জানান, বর্তমানে মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে খাল খননকাজ শুরু করা হয়েছে। এটি রক্ষা করতে তারা প্রায় ৩০ জন জমির মালিক পৃথকভাবে আদালতে ৪টি মামলা করেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তারা। তবুও তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে কিছু সুবিধাবাদীকে আর্থিকভাবে লাভবান করতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

প্রকল্পের স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষক মহিউল হাসান টিনি বলেন, শুকনো মৌসুমে পানি রাখা এবং বর্ষা মৌসুমে নিস্কাশনের জন্য স্থানীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে সুপারিশ নিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্প অনুমোদন নিয়ে খননকাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু কিছু মানুষ ধানী জমি দাবি করে তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ৭টি ভাগে ভাগ হয়ে খনন কাজ চলছে। এরমধ্যে একটির খননকাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, খাল খননের বিষয়ে শনিবার এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখানে পরিবেশ শান্ত করার জন্য পরেরদিন রোববার জমির কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য জমির মালিকদের বলা হয়। কিন্তু আমি অফিসের কাজে জেলা শহরে থাকায় জমি মালিকদের কাগজপত্র দেখা হয়নি। এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজপত্র না দেখে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব না। তাদের কাগজপত্র আজ না হোক কালকে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে কথা বলতে রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী খান জাফরুল মাহমুদ মেহেদীকে মুঠোফোনে কলা করা হয়। এসময় তিনি বলেন, খাল খননের বিষয়ে মোবাইল ফোনে কোন তথ্য দেয়া যাবে না। অফিসে এসে তথ্য নিয়ে যান। তথ্য দিতে না চাইলে তার কাছে উর্দ্ধতন অফিসারের মোবাইল নম্বর চাইলে কোনো সহযোগিতা করা যাবে না বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন তিনি।

রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফুল হক বলেন, আমরা কারো কোনো ক্ষতি করে কাজ করতে চাই না। বাঘার মানুষের উন্নয়নের জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশে প্রকল্প অনুমোদন করে কাজ শুরু করেছি। যে স্থান দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে, এগুলো সরকারি জমি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কিছু মানুষ নিজ নামে করে নিয়ে চাষাবাদ করছে। প্রকৃতপক্ষে এগুলো সরকারি জমি। তবে এখন পর্যন্ত মামলার কারণ দর্শানোর বিষয়ে কোন নোটিশ আমরা পায়নি। নোটিশ পেলে আইনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অবশ্যই জবাব দিব বলে জানান তিনি।

স/শা

Print