বাগমারার সেই চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জামিনে মুক্ত

May 16, 2019 at 8:15 pm

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক যুবককে কানটানা সাজা দিয়ে ছেড়ে দেয়ার ঘাটনায় যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে আটক করে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার যোগীপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয় বলে বাগমারা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। পরে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আটককৃত চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল যোগীপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

ওসি বলেন, স্কুলছাত্রীর যৌন হায়রানির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। স্কুলছাত্রীর যৌন হয়রানির ঘটনায় এক যুবককে সহযোগিতা দেয়ায় ওই মামলা তাকে আসামী করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন দেন।

বাগমারা উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বারুইহাটি গ্রামে গত ৩ মে এক স্কুলছাত্রীকে ভুট্টা ক্ষেতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক যুবক। ‘হাতেনাতে আটক’ ওই যুবক তৌহিদ আলীকে (২৫) নামমাত্র সালিশে কানধরে উঠবস করিয়ে ছেড়ে দেয় চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। বিষয়টি মিডিয়ায় আসলে গত ৫ মে স্কুলছাত্রীর দাদা বাদি হয়ে বাগমারা থানায় মামলা করে। পরের দিন পুলিশ তৌহিদকে গ্রেপ্তার করে।

তৌহিদ আলী একই গ্রামের এহিয়া আলীর ছেলে। এহিয়া কুদাপাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক। বিবাহিত তৌহিদ সম্প্রতি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছে।

শিশুটির স্বজনরা অভিযোগ করেছিলেন, স্থানীয় স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী (১২) ৩ মে সকালে প্রতিবেশী এক ছোটভাইকে নিয়ে মাঠে ঘাস কাটতে যায়। বেলা ১১টার দিকে তৌহিদ শিশুটিকে জোরপূর্বক ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিল, এ সময় ওই দুই শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তৌহিদকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তাকে মারপিট করে আটকে রাখে গ্রামবাসী। বিকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তৌহিদকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে সালিশ বৈঠক বসিয়ে কান ধরে ক্ষমা চাওয়ার পর তৌহিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ধর্ষণের চেষ্টাকারি তৌহিদ কান ধরে ক্ষমা চাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ জমা হয়েছে।

আপস-মীমাংসার জন্য অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে যোগিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেছিলেন, “বিষয়টি জানার পর গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে ওই ছেলেকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে মেয়ের পিতাকে মামলা করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু মেয়ের কথা ভেবে সে রাজি হননি। সে কারণে সালিশ বৈঠক বসিয়ে আপোস-মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছিল।”

ছেলেটি শুধু মেয়েটির গায়ে হাত দিয়েছে এবং চলে কামড় দিয়েছে, ধর্ষণের চেষ্টা করেনি দাবি করে মোস্তফা কামাল আরও বলেছিলেন, “সালিশ বৈঠকের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তাদের অনুমতিক্রমে ৪০ থেকে ৫০ জন লোকের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক করে মীমাংসা করা হয়। সালিশ শেষে তৌহিদ কান ধরে সকলের কাছে ক্ষমা চায় এবং আর কোনদিন এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এ নিয়ে তার কাছে লিখিতও নেওয়া হয়েছে।

বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, মাঠের মধ্যে এক মেয়ের গায়ে এক ছেলে হাত দিয়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে শুনেছি। তবে এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কথা জানিয়েছিলেন ওসি।

স/অ

Print