মোহনপুর কেশরহাটের ফার্মেসিগুলোতে ‘অবৈধ’ ওষুধ বিক্রির হিড়িক

May 15, 2019 at 10:40 pm

মোহনপুর প্রতিনিধি:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকায় বেশির ভাগ ফার্মেসি শুধুই যেন প্রতারণার ফাঁদ। যত্রতত্র গড়ে ওঠা ফার্মেসীতে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে ফিজিসিয়ান সিম্পুল ওষুধ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ, চেতনা নাশক ওষুধ, যৌন উত্তেজোক ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ধরণের নিম্নমানের ওষুধ। না বুঝে এধরণের ওষুধ কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল মানুষ। তবে এধরণের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন কেশরহাট বাজার ফার্মেসী মালিক সমিতির সভাপতি ডা. হারেস আলী আকন্দ। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ উঠেছে, রাজশাহী অঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবসা কেন্দ্রিক বাজার হিসেবে পরিচিত কেশরহাট। ওষুধ বিক্রয় নীতিমালা উপেক্ষা করে ও অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় অর্ধশতাধিক ফার্মেসী। এসবের বেশিরভাগেই নেই ছাদ ঢালায়। অনেকেই চালাচ্ছেন টিনসেড দোকানে ওষুধ বিক্রি। আবার ফ্রিজে রাখার মতো ওষুধগুলো খোলাস্থানেই রেখে বিক্রি করছেন। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ফিজিসিয়ান ওষুধ বিক্রি করছেন চড়া দামে। আর হর হামেশাই বিক্রি করা হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ ঘুমের ওষুধ। যা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। এবিষয়ে প্রশাসনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

কেশরহাট পৌর এলাকার রস্তুম আলী নামে এক ভুক্তভোগী জানান, কেশরহাটের প্রায় ফার্মেসী ফিজিসিয়ান ওষুধ (বিক্রয় নিষিদ্ধ) বিক্রয়ের আখড়া। এছাড়াও হরদম বিক্রি করা হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সব ওষুধ। নিম্নমানের ওষুধ দিয়ে দাম আদায় করা হচ্ছে ষোল আনাই। ব্যবসায়ীদের ড্রাগ লাইসেন্স দেখার কেউ নেই বলে যেখানে সেখানে ময়লা, ডোবাই টিনসেডের দোকানে চলছে ফার্মেসী ব্যবসা বলে তিনি অভিযোগ করেন। এজন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি কামনা করেছেন।

জানতে চাইলে কেশরহাটের হাসান ফার্মেসীর মালিক সেলিম রেজা এধরণের ফিজিসিয়ান ও যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির বিষয় স্বীকার করে বলেন, এসব ওষুধ বিক্রিতে বেশি লাভের কারণে সবাই বিক্রি করে, তাই আমিও বিক্রি করি। সবাই বন্ধ করলে আমিও বন্ধ করবো।

ফার্মেসী ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, রাজশাহী শহরে এসব ওষুধ বিক্রি হয় কোনো বাধা নাই। তাদের দেখাদেখি কেশরহাটের শুধুমাত্র একটি দোকান ছাড়া সব দোকানেই ফিজিসিয়ান সিম্পুলে ভরা। কোনো সমস্যা হয়নি এজন্য বিক্রি করছেন, বাধা আসলে বিক্রি বন্ধ করে দেবেন বলে তিনি জানান।

কেশরহাট বাজার ফার্মেসী মালিক সমিতির সভাপতি ডা. হারেস আলী আকন্দ বলেন, ফিজিসিয়ান সিম্পুল ও সরকারি ওষুধ বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। এধরণের ওষুধে বাজার পরিপূর্ণ। দেদারসে চলছে এধরণের ওষুধের হরদম বিক্রি। অন্যদিকে কোনো ধরণের অনুমতিছাড়াই বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজোক ও ঘুমের ট্যাবলেটসহ নিম্নমানের ওষুধ। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। এধরণের ব্যবসার দ্রুত প্রতিকার হওয়া জরুরি। এজন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান তিনি।

স/শা

Print