রাবিতে বৈশাখী উৎসব: খেলায় খেলায় আনন্দ বেলায়

April 15, 2019 at 10:47 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি:
ছবি দেখে হয়ত মনে হবে দুজনে পরস্পর শক্তির লড়াই করছেন। কিন্তু না, তারা নেমেছেন প্রতিযোগিতায়। একজনের হাতে রাখা নারিকেল আরেকজন জোর করে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যে সবচেয়ে কম সময়ে নারিকেল কেড়ে নিতে পারবেন সেই হবেন বিজয়ী। একটা সময়ে প্রচলিত আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলায় মেতেছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শুধু নারিকেল খেলাই নয়, বর্ষবরণ উপলক্ষে বৈশাখের দ্বিতীয় দিন সোমবার অপরাহ্নে আরও বেশ কয়েকটি মজার খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল বিভাগটির।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন শিরাজী একাডেমিক ভবনের সামনে জমকালো আয়োজনে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উদযাপন করেন বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। দুপুর আড়াইটায় খেলাধুলার মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় পানি ভর্তি বালতিতে গ্লাস রেখে তাতে পয়সা ফেলা। পরে পাশা তারপর নারিকেল খেলা। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় কপাল টোকা খেলা। সে সময় শিক্ষার্থীদের হৈ-হুল্লোড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। এ ছাড়াও মঞ্চের পাশেই নাটক সংশ্লিষ্ট স্থিরচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

খেলাধুলা শেষে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানের তালে বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নৃত্য পরিবেশন দিয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়। এরপর শুরু হয় শিক্ষার্থীদের একে একে গান, আবৃত্তি, নাটক, নৃত্য পরিবেশন। তাদের নাটকে ফুটে ওঠে ধনী-গরিব বৈষম্য, আপনের প্রতি মানুষের দরদ, দুঃখীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হৃদয় আর নুসরাতের পিশাচীদের প্রতি ধিক্কার। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা কমলাকান্তের দপ্তর, সংযাত্রা, লাঠিনৃত্যও পরিবেশন করেন।

তাদের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে ক্যাম্পাসে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখে তারা বেশ অভিভূত হয়ে পড়েন।

বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উর্মি ও শ্রাবন্তি। তারা বলেন, ‘বর্ষবরণ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে গান-বাজনা, নাচ এগুলো হয়েই থাকে। কিন্তু বৈশাখের পরের দিন এ ধরনের গ্রামিন খেলাধুলা দেখে খুবই ভাল লাগছে। বেশ উপভোগ করছি অনুষ্ঠানটি।’

নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী পার্থ বলেন, বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে এ ধরনের অনুষ্ঠান করছি।

নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি আতাউর রহমান রাজু বলেন, ‘বাঙালিয়ানার পুরোটাই লালন করে বৈশাখকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতেই আমাদের এ আয়োজন। আমাদের শিক্ষার্থীরা এতে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে।’ এখন থেকে প্রতিবছর নিয়মিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

দুই দিনব্যাপী তাদের এই আয়োজনের প্রথম দিন অনুষ্ঠিত হয় পান্তার সঙ্গে ভাজা মাছ উল্টে খাওয়া উৎসব।

স/অ

Print