‘বাবাকে হত্যার কারণ উদঘাটন হয়নি’ রাবি শিক্ষক শফিউলের ছেলে (ভিডিও)

April 15, 2019 at 6:09 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাবাকে হত্যার মোটিভ উদ্ধার হয়নি। বাবাকে হত্যার পেছনে পুলিশি তদন্তে যে কারণ উঠে এসেছে সেটি একটি ছোট ব্যাপার। এই ধরনের ঘটনার কারণে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খুন হতে পারেন-এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় আমার কাছে। কাজেই মামলাটির সঠিক তদন্ত হলে হয়তো এর সঙ্গে অন্য কারো নামও আসতে পারতে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার রায় ঘোষণার পরে এসব মন্তব্য করেন তার ছেলে সৌমিন শাহরিদ।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের জনাকীর্ণ আদালতে শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আদালত।

রায়ে এই হত্যাকণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনের ফাঁসি দেওয়া হয়। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিএনপি নেতা উজ্জলসহ আটজনকে খালাস দেওয়া হয়। বিচারক অনুপ কুমার এ রায় দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বিনপি কর্মী আব্দুস সামাদ পিন্টু, যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক ও সবুজ শেখ। সবুজ পলাতক রয়েছে।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জল, পিন্টুর স্ত্রী নাসরিন আক্তার রেশমা,  সিরাজুল ইসলাম কালু, আল-মামুন, সাগর, জিন্নাত, আরিফ ও ইব্রাহীম খলিল ওরফে বাবু।

সৌমিন শাহরিদ বলেন, ‘পুলিম প্রথমে সঠিক লাইনেই ছিল। কিন্তু পরে হঠাৎ করে মামলার তদন্ত ভিন্নদিকে নিয়ে গেছে। তারা তদন্ত করে যে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছেন-তাতে মামলার সঠিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এতে পত্যেকটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমি পাইনি। কাজেই এ তদন্ত সঠিক হয়েছে বলে আমি মনে করি না। ফলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়তো অন্য কেউ থাকতেও পারে। আবার হত্যাকাণ্ডের পরে কোনো আসামি চাপাতি নিয়ে আমবাগানের মধ্যে ঘুরাঘুরিও করবে না। এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের পর এটি সাধারণত দেখা যায় না।’

সৌমিন শাহরিদ বলেন, বিচারকাজ চলাকালীন একজন স্বাক্ষিও আসামিদের নাম বলতে পারলো না। তাহলে এ রায় কোন পর্যায়ে যাবে বলা মুশকিল। তার পরেও বিজ্ঞ আদালত যেটি ভালো মনে করেছেন, সেটি করেছেন। এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে মামলার তদন্ত সঠিক হয়নি বলেই আমি মনে করি। এ কারণেই অভিযোগপত্রে নানা ফাঁক-ফোঁকর থেকে গেছে।’

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ড. শফিউল ইসলামকে। ওই বাসায় একাই থাকতেন শিক্ষক শফিউল ইসলাম লিলন। আর একমাত্র ছেলে থাকেন ঢাকায়।

হত্যাকণ্ডের পর প্রথমে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম-২ এর পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয়। পুলিশও ওই সময় হত্যাকাণ্ডটি জঙ্গি সংগঠনের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করে। তবে পরবর্তিতে তদন্তে উঠে আসে রাবির হিসাব শাখার কর্মচারী নাসরিন আক্তার রেশমার সঙ্গে কথাকাটাকাটির জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় তার স্বামী আব্দুস সামাদ পিন্টুসহ তার লোকজন।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ওই বছরেরই ২৩ নভেম্বর যুবদল নেতা আব্দুস সামাদ পিন্টুসহ ছয় জনকে আটক করে র‌্যাব। পরে পিন্টুর স্ত্রী নাসরিন আখতার রেশমাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে দায় স্বীকার করে রেশমা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। এর এক বছর পর ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউস সাদিক রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জলসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

স/আর

Print