পুঠিয়ায় ভিজিডির চাল বিতরণ স্থগিত করতে মানববন্ধনের নাটক

March 19, 2019 at 7:02 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য মমতাজ খাতুন মনির দায়ের করা মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ভিজিডির চাল বিতরন স্থগিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার জিউপাড়া ইউনিয়নে ভিজিডির তালিকাভুক্ত সদস্যদের মাঝে চাল বিতরন করার কথা থাকলেও তা বিতরন করা হয়নি।

তালিকা তৈরিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মমতাজ খাতুন মনি। অভিযোগের সত্যতা প্রমান করতে এবং মঙ্গলবারের চাল বিতরন স্থগিত করতে গত সোমবার সকালে ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক নারীকে মিথ্যা প্রলভন দেখিয়ে উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে এনে মানববন্ধন নাটক সাজিয়েছেন তিনি।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন জিউপাড়া ইউনিয়ন এলাকার মালেকা বেগম। তিনি জানান, মনি মেম্বার আমাদের আগের দিন বিকেলে ফোন করে বলে ভিজিডি কার্ড পেতে চাইলে তুমি সহ কয়েকজন নারীকে নিয়ে উপজেলা পরিষদে এসো। সেখানে গেলে ভিজিডির কার্ডের একটা ব্যবস্থা হবে।

তার ফোন পাওয়া আরেক নারী রওশন আরা জানান, ভিজিডির কার্ডের ব্যপারে আমাকে ফোন করে ডাকা হয়েছিলো কিন্তু আমি সেখানে যাইনি। তবে আমাদের এখানকার ছবিরন বিবি, লাভলি বেগম, সহ ৮/১০ নারী গিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে তাদের ফের ইউনিয়ন পরিষদে ডাকা হয় ভিজিডির কার্ড দেবার কথা বলে। সেখানে আগত রমজান আলীর স্ত্রী রিনা বেগম বলেন, কাল উপজেলায় গেলাম আজ ইউনিয়নে এলাম কিন্তু কার্ড তো পেলাম না। কাজ কাম ফেলে এই যে দোড়াদড়ি করছি এর দাম দেবে কে ?

সংস্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে জিউপাড়া ইউনিয়নে অন্তত ৯ শ জনের ওপরে ভিজিডির কার্ড পেতে আবেদন করেন। এদের মধ্যে যাচাই বাছাই করে ৩১৯ জন ব্যক্তিকে ভিজিডি কার্ডের আওতায় আনা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মাঝে চাল বিতরনের কথা থাকলেও ইউনিয়নের মহিলা সদস্য মমতাজ খাতুন মনির অভিযোগ ও পরে মানববন্ধন নাটক সাজানোয় চাল বিতরন কাজ স্থগিত করতে বান্ধ হয় উপজেলা প্রশাসন।

পরে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন ইউনিয়নে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের তদন্ত করেন কিন্তু তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি। বিধায় বুধবার সকাল থেকে ভিজিডির চাল বিতরন করার অনুমতি দেন।

জিউপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন হাওলাদার জানান, মহিলা ইউপি সদস্য মমতাজ খাতুন মনির অভিযোগের ভিত্তিতে ভিজিডির চাল বিতরন স্থগিত করা হয়। পরে মঙ্গলবার ইউএনও স্যার পরিষদে এসে অভিযোগগুলোর তদন্ত করে তার কোন সত্যতা না পাওয়ায় চাল বিতরনের অনুমতি দিয়েছেন।

তিনি আরো জানান,ওই ইউপি সদস্য অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত ভিজিডির মিটিং এ তাকে ডাকা হয়নি এবং তার স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন করে ভিজিডির তালিকা উপজেলা পরিষদে পাঠানো হয়েছে এবং অস্বচ্ছল ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের মাঝে ভিজিডির কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইউএনও স্যার ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিন তদন্তে এসে অভিযোগগুলোর সত্যতা পায়নি। এমনকি ইউএনও স্যারের কাছে ভিজিডির মিটিং এ স্বাক্ষর করার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

তবে এব্যপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মমতাজ খাতুন মনি মানববন্ধন নাটক সাজানোর ব্যপারে বলেন, আমি কাউকে ডাকিনি তারা নিজ ইচ্ছায় সেখানে গেছেন। তবে আমি ব্যক্তিগত একটি কাজে সেখানে গিয়ে দেখি তারা মানববন্ধন করছে।

মিথ্যা অভিযোগের ব্যপারে তিনি বলেন, অভিযোগগুলো একটাও মিথ্যা না এবং আমি স্ব-জ্ঞনে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করিনি।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান তার স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি ইউপি পরিষদে সবার সামনে ওই স্বাক্ষর নিজের বলে স্বীকার করেছেন। মানববন্ধনও তিনিই করিয়েছেন বলে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছি।

তিনি আরো বলেন, যারা কার্ড ভোগী তাদের তথ্য কালেকশন করতে ৭ দিনের সময় দেয়া হয়েছে। সেখানে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স/অ

Print