যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা কিসের ইঙ্গিত

October 14, 2016 at 10:39 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য সব দেশই ‘মশগুল’। কিন্তু মূল সমস্যা দারিদ্র ও ক্ষুধা দূর করার দিকে কোনো দেশের নজর আছে বলে মনে হয় না।

অথচ বড় বড় দেশ, যাদের কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি, তারাই লিপ্ত রয়েছে সমরসজ্জা, যুদ্ধের মহড়ায়। কিছুদিন আগেও রাশিয়া যুদ্ধের মহড়া দিল ভারতের সাথে জোট বেঁধে। বিভিন্ন অঞ্চলে সৈন্য সমাবেশও করছে রাশিয়া। অস্ত্র বিক্রির ব্যবসা তো রীতিমতো জমজমাট। মাত্র কয়েকদিন হলো তেহরানে ৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির শেষ চালানটি পাঠিয়েছে মস্কো।

এতে আর যাই হোক, শান্তি দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে হাতছানি দিয়ে ডাকা হচ্ছে ক্ষুধা, দারিদ্র ও মহামারিকে। প্রতিবেশি দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার যুদ্ধংদেহী মনোভাব, সমরাস্ত্র ও সেনা সমাবেশ, মন চাইলেই সিরিয়ায় বোমা বর্ষণ করা কী যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। নাকি, যুদ্ধ প্রস্তুতির ইঙ্গিত এগুলো।

পশ্চিম দুনিয়ার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিল মনে করে, যে কোনো মুহূর্তে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোয় হামলা চালাতে পারে। এবং সেই হামলার মুখে অসহায় পড়বে দেশগুলো, অন্যকথায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগই পাবে না। অর্থাৎ রাশিয়া হামলাটি চালাবে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে।

ইংল্যান্ডের দৈনিক স্টার পত্রিকায় সম্প্রতি বলা হয়, আটলান্টিক কাউন্সিল সামরিক দিক দিয়ে রাশিয়ার তুলনায় অন্যান্য দেশের দুর্বলতা ও অবস্থান খতিয়ে দেখে।

 
ওয়াশিংটন ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্কটি মনে করে, খুব সহজেই আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম দেশটি খুব সহজেই যুদ্ধ ঘোষণা করে ন্যাটোর প্রবল কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগই এক রাতের মধ্যে বাল্টিক সাগরীয় দেশগুলো দখল করে নিতে পারবে। এমনটা যদি ঘটেই থাকে তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যে লেগে যাবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

থিঙ্ক ট্যাঙ্কটির এক নিবন্ধে বলা হয়, রাশিয়া খুব সহজের ঝটিকা হামলা চালিয়ে বাল্টিক সাগরীয় দেশগুলোর যোগাযোগ অবশিষ্ট বিশ্বের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারবে। এতে ন্যাটোর সদস্যভুক্ত বেশিরভাগ দেশ অরক্ষিত হয়ে পড়বে। এর ফলে পোল্যান্ড ও রাশিয়ার সীমান্ত সংলগ্ন দেশ, ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশগুলো স্বাধীনতা প্রশ্নে প্রবল চাপের মুখে পড়বে। ফলে পূর্ব ইউরোপে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, সে ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। রিপোর্টটি লিখেছেন সাবেক ব্রিটিশ জেনারেল স্যার রিচার্ড শিরেফ ও পোল্যান্ডের প্রাক্তন পররাষ্ট্র  মন্ত্রীর সাবেক বিশেষ উপদেষ্টা ওলেক্স সতজাইতোস্কি।

এই রিপোর্ট লিখতে গিয়ে তারা রাশিয়ার সমরসজ্জা ও মহড়ার কথা উল্লেখ করেন। এখানে একটি মজার বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, অতি সম্প্রতি একটি কনভয়ে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। সেগুলো বর্তমানে রাশিয়ার ইউরোপীয় সীমান্ত মোতায়েন রয়েছে। সেখান থেকে ওগুলো আবার মঙ্গোলিয়া সীমান্তে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মঙ্গোলিয়া সীমান্তে না নেওয়ার অর্থ হলো লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও এস্টোনিয়ায় গোপনে হামলা চালাতে সক্ষম হবে রাশিয়া।

এ ছাড়া সামরিক মহড়ার কথা বলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সহজেই অতি দ্রুত বাল্টিক সাগরীয় দেশগুলোয় সৈন্য পাঠাতে সক্ষম হবেন।

বাল্টিক সাগরীয় দেশগুলোকে আবারো একত্রিকরণ করায় তা পোল্যান্ড ও ন্যাটোর জন্য এরই মধ্যে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া তার পশ্চিম সীমান্তে সামরিক মহড়া শুরু করলে ন্যাটো পাল্টা জবাব দিতে পারে। সেক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যেতে পারে।

সম্ভাব্য রুশ আগাসন মোকাবিলা করতে আটলান্টিক কাউন্সিলের  রিপোর্টে পোল্যান্ডকে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লন্ডন ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ইউরোপীয়ান ফরেন পলিসিও (ইএলএন) হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যে, পুতিন ও তার জেনারেলরা যে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে তার প্রমাণ মিলে রুশ সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডে। ২০১৫ সালে রুশরা প্রায় চার হাজর সমরিক মহড়া করে। অপরদিকে ন্যাটো করে মাত্র ২৭০টি।

সামরিক মহড়ার অর্থ এই নয় যে এখনই যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছে রুশরা। তবে যুদ্ধের প্রস্তুতি তো বটেই।

 

সূত্র: রাইজিংবিডি

Print