পলাশকে নিয়ে নায়িকা সিমলার ভিডিও বার্তা

February 25, 2019 at 10:23 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইচেষ্টার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছেন মো. পলাশ আহমেদ নামে এক যুবক। রোববার ঘটনার দিন এই যুবককে নিয়ে নানান ধূম্রজাল তৈরি হয়েছিল।

প্রথম বিভ্রান্তি তৈরি হয় তার নাম নিয়ে। একবার জানা যায় তার নাম মাহাদী, পরে মাজিদুল। অবশেষে সোমবার তার সঠিক নাম জানা গেল। তার নাম মো. পলাশ আহমেদ (২৬)।

কেন এই যুবক এ ঘটনা ঘটাল। ঘটনার রাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

পরে সোমবার ওই যুবক সম্পর্কে নানান তথ্য সামনে আসতে থাকে। জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ঢাকাই ছবির চিত্রনায়িকা সিমলাকে বিয়ে করেন পলাশ নামে ওই যুবক।

র‌্যাব জানায়, পলাশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে।

রোববার বিমান ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় নিহত মাজেদুলই দুধঘাটা গ্রামের পলাশ মাহমুদ তা নিশ্চিত করেন সোনারগাঁ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, নিহতের ছবি রোববার রাত ১টার দিকে দুধঘাটা গ্রামের পিয়ার জাহানের বাড়িতে নিয়ে দেখালে তারা ছবিটি পলাশের বলে নিশ্চিত করে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ইতিমধ্যে তার বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করে। এরই মধ্যে জানা গেছে, সিমলার স্বামী ছিলেন এই পলাশ।

এ বিষয়ে যুগান্তরে গত বছরের ৫ জানুয়ারি ‘২০ বছরের কম বয়সীকে বিয়ে করলেন ম্যাডাম ফুলি’ শিরোনামে একটি সংবাদও প্রকাশিত হয়। সেখানে সিমলার স্বামীর নাম জানানো হয় মাহি বি জাহান। সেই সময় সিমলার ঘনিষ্ঠজনরা গণমাধ্যমকে জানান, বিয়েতে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

রোববার বিমান ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পলাশ ও সিমলার বিয়ের বিষয়টি আবার সামনে আসে। এর ব্যাখা দিতে ভিডিও বার্তা দেন নায়িকা সিমলা।

ভিডিও বার্তায় সিমলা বলেন, ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তার সঙ্গে পরিচয় পলাশের। আমি পরিচালক রশিদ পলাশের ‘নাইওর’ ছবি করেছিলাম। সেদিন (১২ তারিখ) পরিচালক রশিদ পলাশের জন্মদিন ছিল। আমাকে সেখানে ইনভাইট করেছিলেন তিনি। আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই পলাশের (বিমান ছিনতাইচেষ্টাকারী) সঙ্গে আমার পরিচয় হয়।

সিমলা বলেন, এরপর ২০১৮ সালের ৩ মার্চ আমরা বিয়ে করি। ওই বছরেরই নভেম্বরে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে।

পলাশকে ডিভোর্স দেয়ার তথ্য জানিয়ে নায়িকা সিমলা আরও বলেন, ডিভোর্স দেয়ার কারণ ছিল। মূল কারণ হচ্ছে- মানসিক সমস্যা।

তিনি বলেন, পেশা হিসেবে আমি যেটা জানতাম-জানি সেটা হলো পরিচালক রশিদের ‘কবর’ ছবিতে প্রযোজক হিসেবে ছিলেন পলাশ (বিমান ছিনতাইচেষ্টাকারী)। আমি তাকে (পলাশ) একজন প্রযোজক হিসেবেই চিনি।

সিমলা বলেন, আমি ঘটনার (বিমান ছিনতাইচেষ্টা) সবই শুনেছি। আমার এখন কী করা উচিত। যেহেতু উনাকে (পলাশ) আমি ডিভোর্স দিয়ে ফেলেছি। আমাদের ডিভোর্স হয়েছে চার মাস চলছে। গতবছরের নভেম্বর মাসের ৬ তারিখে ডিভোর্স হয় আমাদের। এখন আমার কী করণীয় আছে।

তিনি বলেন, তবুও একটা কথা থাকে এখানে। যেহেতু এত বড় একটা ঘটনা ঘটেছে। করেছে দুঃসাহসিক একটা ঘটনা উনি (পলাশ) এবনরমালেই করেছেন। যেটাই করেন না কেন এটা তো শুভনীয় নয়। এটা তো দেশের জন্য শুভনীয় নয়। এটা আমার দেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। সেখানে যদি আমার দেশের স্বার্থের জন্য কোথাও ফেইস হতে হয়, কোনো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, নো প্রোবলেম। আমি রেডি, নো প্রোবলেম।

Print