অবশেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীর ড্রেজিং শুরু

February 14, 2019 at 5:44 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির ৮ বছর পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদীর ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে। আর এই কাজটি শেষ হলে শুরু হবে আরেক প্রতিশ্রুত রাবার ড্যাম প্রকল্পের কাজ।

জানা গেছে, ভারত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বয়ে আসা মহানন্দা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ৯৫ কিলোমিটার। ভারতে উৎপত্তি হওয়া মহানন্দা নদী জেলার ভোলাহাট উপজেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে গোমস্তাপুর, নাচোল ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী নামক স্থানে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে। এক সময়ের প্রমত্ত্বা মহানন্দা নদী নানা কারণে হারিয়েছে তার গৌরব। বর্ষাকালে মহানন্দা কিছুটা নিজ রূপ ফিরে পেলেও খরার সময় নদীটি হয়ে যায় মৃতপ্রায়। এর প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠের জনসভায় মহানন্দা নদী খনন ও রাবার ড্যাম নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদের প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মহানন্দা নদীর ড্রেজিং কাজ মাত্র কয়েকদিন আগে শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর হলেও শেষ পর্যন্ত কাজ শুরু হওয়ায় খুশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ।

মহানন্দার ৩৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে করা হচ্ছে ড্রেজিং। এ কাজ শেষ হলে আবারো মহানন্দা তার রূপ ফিরে পাবে। আর নদীতে সারাবছর মাছ চাষসহ আশপাশের জমিও চাষাবাদ করা যাবে এমনটি জানালেন, স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম। তিনি জানান, মহানন্দাকে তার নিজ রূপ ফিরিয়ে দিতে ড্রেজিং করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় সবচেয়ে বড় যে কাজ সেটি হচ্ছে ৩৫৩ মিটার রাবার ড্যাম। এ অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ও পানির স্তর অবনমন ঠেকানোর কথা ভেবেই রাবার ড্যাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ শেষ হলে নদীতে সারাবছরই পর্যাপ্ত পানি থাকবে।
ইতোমধ্যে রাবার ড্যাম নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া শর্তগুলো কোনো ঠিকাদারই পূরণ করতে পারেনি। তাই আবারও দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ বলেন, মহানন্দা নদীর পাড়ে এসে যেন মানুষ একটু অবসর কাটাতে পারে, সেই লক্ষ্যে ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও কিছু অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এছাড়া নদীর পাশে কিছু চর জেগেছে, দূর থেকে দেখে মনে হয় দ্বীপের মতো। সে সব স্থানে আগামীতে পিকনিক স্পট করা যায় কিনা সেটিও আমাদের ভাবনায় আছে। সবমিলিয়ে এ প্রকল্পের তিনটি প্যাকেজে ব্যয় হবে ১৫৯ কোটি টাকা।

স/শা

Print