বিজ্ঞপ্তির ৭ বছর পর রাবিতে নিয়োগ পরীক্ষা!

February 12, 2019 at 11:32 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সেকশন অফিসার নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল ২০১২ সালে। দীর্ঘ ৭ বছর পর সেই বিজ্ঞপ্তিতেই প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে বর্তমান সময়ে চাকরি প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার হঠাৎ করেই ২০১২ সালের বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে সেকশন অফিসার পদে আবেদনকারী চাকরি প্রার্থীদের ভাইভার কার্ড ছাড়তে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১২-১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাস ভবনে অনুষ্ঠিত হবে এই মৌখিক পরীক্ষা। এজন্য আবেদনকারীদেরকে তাদের সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপপত্রের মূলকপিসহ নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে নির্বাচকমন্ডলীর সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে ২০১২ সালের ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসারের ৮ টি পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। যার সূত্র বিজ্ঞপ্তি নং-১২/ ২০১২। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মোট ১০৫০ জন চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। কিন্তু সময়ের স্বল্পতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার কারণে সেই সময়ে আবেদনকারীদের ভাইভা নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে ৭ বছর পর সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রার্থীদের ভাইভার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বর্তমান সময়ে চাকরি প্রার্থীরা।

একাধিক চাকরি প্রার্থীর অভিযোগ, ৭ বছর আগে যারা আবেদন করেছিল তাদের বর্তমানে চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে। অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করছে। অথচ গত ৫ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করে সিন্ডিকেটে চাকুরীর বয়সের সীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। একদিকে ৭ বছর আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষা নেয়া অন্যদিকে চাকুরীর বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করে দেয়াকে অনেক শিক্ষক নেতা নিয়োগ বাণিজ্যেও অংশ হিসেবেই দেখছেন।

বর্তমান উপাচার্যের আগের আমলেও নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে তার বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে এমন প্রতিবেদন সেই সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার প্রকাশিত হয়েছিল। এই সেই নিয়োগ বাণিজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মেহেরচন্ডী, বুধপাড়া ও শিবিরপাড়ার অনেক জামাত-শিবিরের ক্যাডারকে নিয়োগ দিতেও দ্বিধা করেন নি প্রফেসর আব্দুস সোবহান।

দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হয়ে প্রফেসর আব্দুস সোবহান নিয়োগের ব্যাপারে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন প্রশাসক ও শিক্ষকদের ছেলে মেয়েদের চাকুরী দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখারও চেষ্টা করছেন আব্দুস সোবহান।

এপ্রসঙ্গে সাবেক উপ-উপাচার্য চেীধরিী সারওয়ার জাহান সজল বলেন, তাছাড়া আগের বিজ্ঞপ্তিতেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বর্তমানে যারা চাকরি প্রার্থী আছে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। প্রথা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছর পেরিয়ে গেলে পুণঃবিজ্ঞপ্তি দিতে হয় এবং পূর্বের আবেদনকারীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না মর্মে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আবদুল আলীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে যে কোনো সময়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগ দিতে পারে। রিসার্কুলার না করলেও কোনো সমস্যা নাই।

স/অ

Print