প্রধান শিক্ষককে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি

ঈশ্বরগঞ্জে প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

February 12, 2019 at 3:39 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় স্কুলের ক্ষুব্ধ সভাপতি প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে কিল-ঘুষির পর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সভাপতির বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ঘণ্টাব্যাপী তুলকালামের পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মধুপুর বাজারে। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও দপ্তরিকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনা চলাকালে অভিযুক্ত সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মোহাম্মদ বদরুজ্জামান মামুনের বাসভবনের ভেতরের একটি ঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিক্ষোভকারী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করে, ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতেই চেয়ারম্যান নিজেই তাঁর লোকজন দিয়ে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটান।

সকালে উপজেলার মধুপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মধুপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্র হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্থানীয় মগটুলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সভাপতির বিরুদ্ধে মিছিল করছে। তারা চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবি করে বাজারের চৌরাস্তায় অবস্থান নিয়ে সড়কে গাছের গুঁড়ি ও বেঞ্চ ফেলে মুহুর্মুহু স্লোগান দিতে থাকে। স্থানটি চৌরাস্তা হওয়ায় চারটি সড়কে যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভ চলার সময় চেয়ারম্যানের বাড়ির একটি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আহমেদ করীর পুলিশ নিয়ে এসে ছাত্রদের বুঝিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতর নিয়ে যান। সেখানে তিনি (ওসি) পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে ছাত্ররা শান্ত হয়।

ছাত্ররা জানায়, মগটুলা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সভাপতি আবু সালেহ মোহাম্মদ বদরুজ্জামান রবিবার প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলামকে মধুপুর বাজারের একটি বইয়ের দোকানে কিল-ঘুষি মেরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন। তারা গতকাল সোমবার বিদ্যালয়ে এসে এ ঘটনা শোনার পর প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসে।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মোহাম্মদ বদরুজ্জামান মামুন বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছে আর্থিক বিষয়ের হিসাব চেয়েছিলেন। তিনি সেটি না করে ছাত্রদের লেলিয়ে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২৭ জানুয়ারি উচ্চ আদালত বিদ্যালয়ের কমিটি স্থগিত করেছেন। সেই হিসেবে এখন তিনি (মামুন) সভাপতি নন। এর পরও তিনি আমাকে গত রবিবার বাজারের একটি দোকানে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চান। এ সময় আমি হিসাব-নিকাশ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই তিনি আচমকা শার্টের কলার ধরে কিল-ঘুষি ছাড়াও মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে রুমানা তোয়া জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Print