ভেজাল ওষুধে মৃত্যু

মেলায় চলছে এই পথে আলো জ্বেলে

February 12, 2019 at 12:27 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের নতুন উপন্যাস এই পথে আলো জ্বেলে।

প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন। এ উপন্যাসে আছে বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন, তার নায়কদের কথা, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা দাবি উত্থাপন, তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা আন্দোলন, তার গ্রেফতারের পর গ্রেফতার হওয়া, সর্বংসহা সহধর্মিণী ফজিলাতুন্নেছা রেনুর সংগ্রাম, শেখ হাসিনার সক্রিয় ছাত্ররাজনীতিতে আসা, মওলানা ভাসানীসহ বামপন্থীদের ভূমিকা, জেলে তাজউদ্দীনের জীবন, পিতার সান্নিধ্যবঞ্চিত শেখ মুজিবের ছোট ছেলেমেয়েদের দুঃখ-বেদনা আনিসুল হক এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে পড়তে গিয়ে মনে হবে বর্ণিত ঘটনাগুলো চোখের সামনে দিব্যি ঘটে চলেছে।

দেখতে দেখতে এসে যায় আটষট্টি সাল। জেলবন্দী শেখ মুজিবের কাছে জেল কর্তৃপক্ষের পদস্থ একজন এসে বলেন, তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। সন্দেহ হয় মুজিবের। মাথা উঁচু করে বাইরে বেরিয়ে দেখতে পান সামরিক বাহিনীর গাড়ির বহর। তাকে আবার জেলগেট থেকেই গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার মুখে শেখ মুজিব ‘মাটিতে বসে পড়লেন। বাংলার ধূলিমাটি তিনি স্পর্শ করলেন পরম মমতায়। তারপর বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন, ‘আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি।’

শুরু হলো কথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ফুঁসে উঠল ছাত্রসমাজ। তারা সারা দেশে গড়ে তুলল ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’। শুরু হলো মিছিল। সংগ্রাম। সৃষ্টি হলো গণজোয়ার। এই সংগ্রামে, মিছিলে গেল কত প্রাণ!

শেষে শেখ মুজিবের নিঃশর্ত মুক্তি, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তরফ থেকে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা—এসবই এ উপন্যাসে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

আনিসুল হকের লেখা এই উপন্যাস ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ কালপর্বের বাংলাদেশের এক মহা আখ্যান। পাওয়া যাচ্ছে প্রথমার প্যাভিলিয়নে। অনলাইনের পাশাপাশি বই অর্ডার করা যাবে এসএমএসেও।

এ জন্য মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে boi লিখে এসএমএস করতে হবে ২২২২১ নম্বরে। বিস্তারিত জানতে ফোন করা যাবে ০১৯৮৮৩৩৭৭৩৩ এই নম্বরে।

তথ্য প্রযুক্তি সাংবাদিক ও লেখক রাহিতুল ইসলাম বলেন, এবারের বই মেলায় আমার দেখা সেরা বই হচ্ছে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের এই পথে আলো জ্বেলে।

এই বইটিতে আমাদের অনেক অজানা তথ্যও উঠে এসেছে। তরুণ প্রজন্মের এই বই পড়া উচিত। এই বইটা পড়লে বোঝা যাবে একটা দেশ পেতে আমাদের পূর্ব প্রজন্ম কতো কষ্ট করেছেন। কতো আত্মদান ও আত্মত্যাগ করেছেন।

Print