আগামী দিনের দক্ষতা

February 11, 2019 at 5:27 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

২০১৯ সালের শুরু থেকেই কর্মস্থলে নতুন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে। তাই চাকরির বাজারে নিজের সেরাটা নিয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে সাধারণ ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি বিশেষ দক্ষতাও সমান জরুরি। আগামী দিনগুলোতে নিজেকে প্রস্তুত করতে কী কী দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলো সম্পর্কে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ক্যারিয়ারবিষয়ক জ নপ্রিয় সামাজিক ওয়েবসাইট লিংকডইন। ২০১৯ সালের কর্মক্ষেত্রে কোন দক্ষতাগুলোর চাহিদা বেশি? চলুন, জেনে নেওয়া যাক।

ব্যক্তিগত বা সাধারণ দক্ষতা
নিজের ব্যক্তি উদ্যোগেই এ ধরনের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। চোখ-কান খোলা রেখে একটু সচেতন থাকলে নিজের ভেতর এই দক্ষতাগুলো গড়ে তুলতে পারবেন।

সৃজনশীলতা
ভবিষ্যতের দুনিয়া হবে রোবট আর ‘অটোমেশন’ নিয়ে। সেগুলো দিয়ে নানা রকম কাজ করা সম্ভব হলেও গোড়া থেকে সৃজনশীল কাজ করা অসম্ভব। তাই কর্মবাজারের ব্যক্তিগত দক্ষতাগুলোর তালিকায় শীর্ষে আছে সৃজনশীলতা। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে নতুন ধারণা তৈরি, নতুনভাবে চিন্তা করার দক্ষতাকেই বেশি জোর দিয়ে দেখছে সবাই।

উৎসাহ
কর্মস্থলে কাজের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো আগ্রহ বা উৎসাহী মনোভাব। নিজেই নিজের কাজ নিয়ে উৎসাহী থাকা এবং নিয়মিত সেটার পেছনে লেগে থাকা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা এখন ভাবেন, অফিসের কাজ নিয়ে যেন কাউকে বারবার বলতে না হয়। বরং সে যেন নিজ দায়িত্বেই কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সচেতন হয়।

সহযোগী মানসিকতা
যেকোনো ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানেই সহকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রয়োজন হয়। ফলে পাশের সহকর্মীকে তাঁর কাজে সাহায্য করতে হবে। ‘সব কাজ একাই করব’—এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। দলগত কাজের ক্ষেত্রে সহকর্মীর যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেই বিষয়টি সব সময় মাথায় রাখতে হবে।

মানিয়ে নেওয়া
বস রাগী, সহকর্মীর কাজ পছন্দ হয় না, অফিসে চাপ বেশি, কাজের পরিবেশ খারাপ—এ ধরনের ছোট ছোট সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে। তাই নিজের দক্ষতাকেও সমানতালে বাড়াতে হবে। গতকাল যেভাবে কোনো সমস্যার সমাধান করা গেছে, ভবিষ্যতে সেটা না-ও হতে পারে। নতুন সমস্যা মেনে সেটা নতুন উপায়ে সমাধানের মনোভাব থাকা জরুরি।

সময় সচেতনতা
ব্যস্ত জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের জন্য মূল্যবান। তাই আপনার কাজের সময়সূচি ঠিক রাখা সমানভাবে জরুরি। যেকোনো ফরম পূরণ, মিটিংয়ে থাকা, সময়ের আগেই কাজ শেষ করাসহ শেষ সময়ে যেন সবকিছু একবারে না করার প্রয়োজন হয় এমন নিয়মে কাজ করতে হবে। কাজের গুরুত্ব ও সময়ভেদে ধারাবাহিকতা মেনে চলতে হবে।

বিশেষ দক্ষতা
সব কাজের কাজি না হয়ে একটা কাজে নিজের সেরাটা দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া খুব জরুরি। তাই ব্যক্তিগত বা সাধারণ দক্ষতার পাশাপাশি নির্ধারিত ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

ক্লাউড কম্পিউটিং
বর্তমানে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বিশালাকার অফিস থেকে বেরিয়ে চলে এসেছে ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায়। কম খরচে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ সারছে ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মে। ক্লাউড কম্পিউটিং হলো সহজ ভাষায় অনলাইনে থাকা একটি কম্পিউটার। যেকোনো জায়গা থেকে এই কম্পিউটারে প্রবেশ করা যায়। তাই এ বিষয়ে দক্ষদের চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স)
সারা বিশ্বের সাড়ে ৭ বিলিয়ন মানুষের কাছ থেকে প্রতি মুহূর্তে কোটি কোটি গিগাবাইট পরিমাণ তথ্য আসছে। এসব তথ্য আলাদা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা প্রায় অসম্ভব। যন্ত্রের সাহায্যে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সেগুলো থেকে নতুন ধারণা, মানুষের চিন্তা ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের রূপরেখা বের করার অসাধারণ পন্থা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তাই এ বিষয়ে দক্ষতা আপনাকে অচিরেই কর্মবাজারের অনেক ওপরের ধাপে অবস্থানের সুযোগ করে দেবে।

বিশ্লেষণের ক্ষমতা
এত এত তথ্য বিশ্লেষণ দেখে শেষমেশ বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? মানে এসব বুঝে-শুনে প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা সিদ্ধান্ত নেওয়াও বেশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ। চারপাশের পরিস্থিতি, বাজার ব্যবস্থাপনা, ক্রেতার চাহিদা, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা—এসব সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণ করে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার দক্ষতা থাকতে হবে।

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন খাত রয়েছে। সব মিলিয়ে কর্মীর সংখ্যাও অনেক। এত সব মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে তাঁদের কাছ থেকে সেরা মানের কাজ বের করে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তাই মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ব্যক্তির চাহিদা এখন বেশি। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দেখভাল ও তাঁদের কাছ থেকে সেরা কাজ আদায় করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এ বিষয়ে দক্ষ মানুষেরা।

ইউএক্স ডিজাইন
ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে আপনার পণ্য কীভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে সেটি এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ইউএক্স—ইউজার এক্সপেরিয়েন্স, অর্থাৎ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা কেমন হবে সেটির ওপর নির্ভর করে ভার্চ্যুয়াল জগতে আপনার পণ্য কত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কাজের নানা সুবিধা, মানানসই রং, সঠিক ফন্ট ও কালার প্রোফাইলের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতারও প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৃষ্টিশীল কাজের বিকাশ ঘটানোই এ দক্ষতার মূল হাতিয়ার। তাই আগামী দিনে প্রযুক্তিপণ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার এক বিশাল বাজার হলো এই ইউএক্স ডিজাইন।

Print