তথ্যপ্রযুক্তিতে আধিপত্য বিস্তারে সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলা

February 11, 2019 at 1:12 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

যে ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছেন রফিক, সালাম, বরকতরা সেই ভাষা এখন বদলেছে অনেক।

প্রযুক্তির কল্যাণে তা ছড়াচ্ছে বিশ্বব্যাপী। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় নেওয়া হয়েছে প্রকল্প। সেই প্রকল্পের কতদূর এগোলো?

‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক যে প্রকল্প নিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), সেখানে বাংলা ভাষাকে করা হবে তথ্যপ্রযুক্তির জন্য সমৃদ্ধশালী।

উন্নয়ন করা হবে অন্তত ১৬টি টুলস যেগুলো বাংলাকে তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যবহার সহজ করবে। ফলে বিশ্বব্যাপী খুব সহজেই ভাষাটি প্রযুক্তিমাধ্যমে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হবে।

২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। তবে প্রকল্পটির দুই বছর মেয়াদ ছুঁই ছুঁই করলেও বলার মতো তেমন অবস্থা চোখে পড়েনি। কারণ হিসেবে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, প্রকল্পটিতে যেসব কাজ করা হচ্ছে তা সময়ের হিসেবে মাপা খুব কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন আরও সময়। তাই প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার কাজ ইতোমধ্যে এগিয়েছে। দেশের কয়েকটি স্থানে করা হয়েছে সেমিনার, সভা। বিশেষজ্ঞ কমিটি করে সেসব সভা-সেমিনার-কর্মশালা থেকে আসছে সুপারিশ। পাশাপাশি চলছে গবেষণা।

প্রকল্পের আদ্যোপান্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২০১৭ সালে একনেক সভায় অনুমোদনের এক মাস পর ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটি প্রাশাসনিক অনুমোদন পায়। ১৫ মে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি প্রথম সভা করে। স্টিয়ারিং কমিটি সভা করে ২৪ মে। এরপর জুন ২০১৭ থেকে বাস্তবায়ন মেয়াদ দুই বছর ধরে শেষ হবার কথা রয়েছে চলতি বছরের জুনে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৯ কোটি ২ লাখ টাকা।

অগ্রগতি হয়েছে যত

প্রকল্পটি অনুমোদন পাবার পর একজন প্রকল্প পরিচালক ও একটি ডেপুটি নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও সাতজন কনসালটেন্ট নিয়োগ রয়েছেন প্রকল্পটিতে। প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির বরাদ্দও দেয়া হয়েছে। সরাসরি পদ্ধতিতে দুইজন অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন হিসাবরক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। এর বাইরে আউট সোর্সিং হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চার জন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কয়েকটি অভ্যান্তরীণ এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির সভা হয়েছে। সেসব কমিটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট আটটি সেমিনার ও কর্মশালা করেছে।

গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণে যে ১৬টি টুলস তৈরি করা হবে। সেগুলোর জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার পূর্ববর্তী ইওয়াই আহবান করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. জিয়াউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রত্যেকটি সেমিনার একেকটা গবেষণাপত্র বলা যায়। সেসব সেমিনার থেকে আমরা অনেক রিসোর্স পেয়ে থাকি। যা পরে আলোচনার মাধ্যমে সুপারিশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তিনি বলেন, প্রথম দিকেই প্রকল্পের কাজ একটু ধীর গতির মনে হতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের মূল কাজের মাত্র পাঁচ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এর কারণ, বিষয়গুলো জটিল। যেহেতু ভাষা জড়িয়ে আছে কাজটিতে তাই সতর্ক থেকে কাজ করতে হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাস্তবায়নে

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর নতুনত্ব। প্রকল্পে যে ১৬টি টুলস উন্নয়ন করার কথা বলা হয়েছে সেগুলো একেবারেই নতুন বলা যায়। যেগুলো নতুন নয়, অন্যরা কিছু কাজ করেছে সেগুলো আবার এতোটাই কম যে তা আবার শুরু থেকেই করতে হচ্ছে। ফলে এটি মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন প্রকল্প পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, এটা শুধু একটা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হলে হয়তো কম সময়ে খুব সহজেই করা যেত। কিন্তু এতে ভাষার বিভিন্ন দিক, এর অর্থসহ নানান বিষয় দেখতে হয়। তাই সময় সাপেক্ষ এবং চ্যালেঞ্জের।

একই কথা প্রকল্প নেবার পর এর বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পেয়ে বলেছিলেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারও। তিনি এতো বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের সক্ষমতার প্রশ্ন তুলেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এতদিন তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার উন্নয়নে অর্থ সংস্থানের শঙ্কা থাকলেও এখন সবাই ভাবছেন এই কাজগুলো সম্পন্ন হবে কেমন করে।

বাংলার ভাষাবিজ্ঞানী ও তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানী উভয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পের সফলতার দৃঢ় আশাবাদ জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ভাষার জন্য রক্ত দেয়া জাতি হিসেবে আমরা কোনোভাবেই এটিকে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। যা বাড়ানো হবে বলে প্রত্যাশা করছেন প্রকল্প পরিচালক।

Print