রাজশাহীতে ফাঁকা মাঠেও বিভক্ত আ.লীগ, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা

February 11, 2019 at 12:18 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর নয়টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রার্থী ঘোষণা তো দূরের কথা দলের তেমন কোনো নেতাকর্মীও উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপির। ফলে আওয়ামী লীগের জন্য উপজেলা নির্বাচনের মাঠ এখন পর্যন্ত অনেকটা পরিস্কার। কিন্তু প্রার্তী ঘোষণা পর থেকেই জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ছয়টিতেই দেখা দিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ।

দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন কেউ কেউ। এতে করে জেলার অধিকাংশ উপজেলাতেই উপজেলা নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের অভ্যান্তরীন কোন্দল এখন চরমে। এর মধ্যে কোথাও কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। বিশেষ করে জেলার দুর্গাপুর, বাগমারা, তানোর, গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে। কিন্তু নজরুল ইসলামের চেয়ে এখানে জনপ্রিয় নেতা আব্দুল মজিদকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে দাবি তুলে গত শনিবারই বিক্ষোভ করেন মজিদ সমর্থকরা। এসময় তারা নজরুলের সমর্থকদের ধাওয়া দিয়ে উপজেলা সদর থেকে তাড়িয়েও দেন। নজরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকে গতকালও দুর্গাপুরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এমনকি এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেও ঘোষনা দেওয়া হয় রবিবার।

একই অবস্থা জেলার বাগমারাতেও। এখানে জনপ্রিয় নেতা ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টুকে মনোনয়ন না দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অনিল কুমারকে। এমপি এনামুলের আস্থাভজন হিসেবে পরিচিত অনিল কুমারের পক্ষে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো নেতাকর্মী মাঠে নামেননি। এখানেও জাকিরুল ইসলাম সান্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

তবে সান্টু বলেন, তাঁর ওপর অবিচার করা হয়েছে। তাঁকে মনোনয়ণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

জেলার পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু। কিন্তু এখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও এমপির আস্থাভাজন মুনসুর রহমানকে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফারুক হোসেন ডাবলু তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হায়রে তৃণমূল দরদী নেতা, তৃণমূলের চাওয়া-পাওয়ার কোনো মূল্যায়ন হয় না।’

মোহনপুরে মনোনয়ন পেয়েছেন এমপি আয়েন উদ্দিনের ভগ্নিপতি ও মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম। এর আগেও আব্দুস সালাম নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হোন।

এদিকে জেলার তানোর ও গোদাগাড়ীতেও তৃণমূলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষিত করে এমপি ফারুক চৌধুরীর পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মনোনয়ন না দিয়ে এখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সরাঞ্জয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লুৎফর হায়দার ময়নাকে। এ নিয়ে মামুনের সমর্থকরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ময়নার পক্ষে তারা মাঠে না নামারও ঘোষণা দিয়েছেন।

জেলার গোদাগাড়ীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে মনোনয়ন না দিয়ে এখানে এমপির আস্থাভাজন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে আসাদ সমর্থকদের।
জেলার চারঘাটেও প্রায় একই অবস্থা। জেলার পুঠিয়াতেও। এখানে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসানুল হক মাসুদকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জিএম হিরা বাচ্চুকে। মাসুদ দাবি করেন, তাঁকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা বলেন, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমপির পছন্দের লোকজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও এমপির আত্মীয়-স্বজনরাও মনোনয়ন পেয়েছেন। এতে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।’

স/আর

Print