চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসন্তের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল

February 9, 2019 at 6:43 pm

কামাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসন্ত আগমনের আগাম বার্তা দিচ্ছে আমের স্বর্ণালী মুকুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে উঠছে আম চাষিদের সোনালী স্বপ্ন। মুকুলের বাহারি রং আর মন মাতানো গন্ধে ভরে উঠছে প্রকৃতি। বসন্ত আসার আগেই গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। বাতাসে সুগন্ধ মিশে সৃষ্টি করছে মৌহ মৌহ গন্ধ। যেন মধুমাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে এসব আমের মুকুল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জন্য বিখ্যাত। এজন্য এ জেলাকে বলা হয় আমের রাজধানী। আম চাষি ও বাগান মালিকরা ধারণা করছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের একাধিক আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের সারি সারি গাছে সবুজ পাতার মাঝে আমের মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিকরা। ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। গত দুই সপ্তাহ থেকে গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান বাগান মালিকরা। গতবছর স্মরণকালের সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে আম। ফলে মোটা অঙ্কের লোকসান গুণতে হয়েছে আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের। তবে এ বছর লাভবান হওয়ার আশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আম চাষিরা।

কৃষি বিভাগ ও আম চাষিরা বলছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমের ভালো ফলন হবে। মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করছেন বাগানের মালিক ও চাষিরা। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মোতাবেক বিভিন্ন ধরনের কীটনাশকও ব্যবহার করছেন তারা।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রায় সব জাতের আমের উৎপাদন হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর কৃষি জমিতে বাড়ছে আমের আবাদ। আম্রপালি, ফজলি, খিরসাপাতি, ল্যাংড়া, রাজভোগ ও গোপাল ভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। তথ্য মতে, দেশের অধিকাংশ আম বাগান রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলার উৎপাদিত আম দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করার পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাগান মালিক সেতাউর রহমান বাদশা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে বাগানের আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বালাইনাশক স্প্রে করছেন। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি।

গোমস্তাপুর উপজেলার আম ব্যবসায়ী কাউসার ফয়জুলী রিবন জানান, গত বছর আমের বাজার মন্দ হওয়ায় লোকসান গুণতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। তবে এ বছর প্রয়োজনীয় কীটনাশকসহ গাছের পরিচর্যা করা হয়েছে। লাভের দেখা মিলবে বলে আশা করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের রাজধানী। এখানকার মাটি ও পরিবেশের কারণে দেশব্যাপী এ জেলার আমের খ্যাতি রয়েছে। বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা অন্যান্য জেলার আম চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে বিক্রি করতেন।

তবে গত ২৭ জানুয়ারি ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাতি আম’ জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এ বছর আমের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গেল দুই সপ্তাহ থেকে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়ার কারণে দেশীয় জাতের গাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ বছর শীতের তীব্রতা ও স্থায়ীত্ব কম থাকায় ১৫ দিন আগেই গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে এবং রোগ বালাই গত বছরের তুলনায় কম হবে বলে মনে করছেন এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম বাগান আছে ২৬ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে, আর আম গাছ আছে প্রায় ২০ লাখ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মঞ্জুরুল হুদা বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য মতে জেলার ৩০ শতাংশ আম গাছে মুকুল এসেছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার টন।

স/অ

Print