ভিনগ্রহবাসীর জন্য জাদুঘর!

January 7, 2019 at 3:49 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সনোরান মরুভূমিতে ফরাসি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জ্যাক আন্দ্রে ইসতেল একটি অদ্ভুত জাদুঘর গড়ে তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভিনগ্রহের প্রাণীরা কখনো পৃথিবীতে এলে তাদের মানবসভ্যতা সম্পর্কে জানতে এই জাদুঘরে আসতেই হবে। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্রানাইট ব্যবহার করে জাদুঘরটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে ৬০০০ সাল পর্যন্ত এটি টিকে থাকবে। এই জাদুঘরে পাথরে খোদাই করে মানবসভ্যতার নানা ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আমেরিকানদের কাছে স্কাই ডাইভিংকে জনপ্রিয় করার পেছনে ইসতেল প্রথম সারির ব্যক্তি। প্রায় ৩০ বছর আগে তিনি এই জাদুঘর গড়ার উদ্যোগ নেন। বিরান মরুভূমিতে ফারাও রাজাদের মতো দীর্ঘস্থায়ী কোনো কীর্তি গড়ার ঝোঁক চেপে বসে তাঁর। স্ত্রী ফেলিসা লি শুরু থেকেই এই কাজে তাঁকে সঙ্গ দেন। স্ত্রী সম্পর্কে ইসতেল বলেন, ‘লি এতটাই রোমাঞ্চপ্রিয় যে যদি তাকে বলি চলো মঙ্গলে যাই, তাহলেও সে নাকচ না করে গুরুত্ব দিয়ে জানতে চাইবে, কী কী সঙ্গে নেব?’

১৯৮০-এর দশকে ইসতেল দম্পতি সনোরান মরুভূমিতে জনশূন্য এলাকায় ২ হাজার ৬০০ একর জায়গা কেনেন। ১৯৮৫ সালে ইসতেল ক্যালিফোর্নিয়ার ইম্পেরিয়াল কাউন্টির কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে–সুঝিয়ে একটি স্বীকৃতি আদায় করেন। এটি হলো তাঁর কেনা জায়গার একটি অংশকে ‘পৃথিবীর কেন্দ্র’ বলে ঘোষণা দেয় ইম্পেরিয়াল কাউন্টির কর্তৃপক্ষ। ভূগোল জানা যে–কেউ জানেন, ভূপৃষ্ঠের যেকোনো জায়গাকেই কেন্দ্র বললে ভুল হয় না। এই ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্বীকৃতির জন্য ওই স্থানে একটি শহর থাকা অপরিহার্য। ইসতেল সেখানে ১৫ জন বাসিন্দার একটি শহর গড়ে তোলেন। ওই বছরই তিনি ওই শহরের মেয়র নির্বাচিত হন।

ইসতেল ও লি পৃথিবীর কেন্দ্রে গড়া জাদুঘরে পৃথিবীর ইতিহাসের সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিদর্শন রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ইসতেলের চাওয়া, তাঁর জাদুঘরটি যেন হাজার হাজার বছর ধরে টিকে থাকে। এ জন্য টেকসই নির্মাণসামগ্রী হিসেবে গ্রানাইট ব্যবহার করা হয়। ইসতেলের জাদুঘর ঘুরে দেখে এক দর্শনার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘মঙ্গলের বাসিন্দারা একদিন পৃথিবীতে এলে মানবসভ্যতা সম্পর্কে এই জাদুঘর থেকে জানতে পারবে। পাথর খোদাই করে চিত্র এঁকে সব গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস রাখা হয়েছে এখানে।’ এখানে যে সবই রাশভারী ইতিহাস রাখা হয়েছে, তা নয়। মজার বিষয়ও আছে অনেক। যেমন ১৮০৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসনের করা তাঁর মন্ত্রিসভায় বিয়ারবিষয়ক একটি মন্ত্রণালয় খোলার প্রস্তাব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে টেলিভিশনের রিমোটের ‘মিউট’ বোতামও। ইসতেলের মতে, রিমোটের মিউট বোতাম সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার।

মরুভূমির উচ্চ তাপমাত্রার কারণে এই জাদুঘর পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক মৌসুম শুরু হয় প্রতিবছর শীতে। থ্যাঙ্কস গিভিং ডের (নভেম্বর মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার) পরদিন থেকে শুরু হয়ে চলে মার্চের শেষ পর্যন্ত। এ সময় একজন সার্বক্ষণিক গাইড থাকেন দর্শনার্থীদের জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য। প্রতি দর্শনার্থীকে এ জন্য তিন ডলারের টিকিট কাটতে হয়। বছরের বাকি সময় জাদুঘর খোলাই থাকে। তবে সে সময় কোনো গাইড থাকেন না।

Print