পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনে আ.লীগে গৃহদাহ, বিএনপিতে হতাশা

December 6, 2018 at 10:17 pm

মইদুল ইসলাম মধু, পুঠিয়া:

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন চিকিৎসক মনসুর রহমান। গত ১০ বছর এ আসনের এমপি ছিলেন আ.লীগের কাজি আবদুল ওয়াদুদ দারা তৃণমুল নেতাকর্মীদের অমুল্যায়ন নিয়োগ বানিজ্যসহ দারা’র বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে পাহাড়সম অভিযোগের কারনে এবার তাকে বাদ দিয়ে দল মনোনয়ন দিয়েছে ডা. মনসুর রহমানকে। এতেই আ.লীগের এক পক্ষ নির্বাচনী মাঠে সরব থাকলেও মনোনয়ন বঞ্চিত আরেক পক্ষ রয়েছেন নীরব।

মনোনয়ন বঞ্চিত দারা’র সমর্থকদের অভিযোগ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভা পরিচিতি সভা করলেও আ.লীগের এক পক্ষকে দুরে রেখে দলীয় কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর বিকেলে লস্করপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠে স্থানীয় আওয়ামীলীগের আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আ.লীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী ডা.মনসুর রহমান। সভায় রাজশাহী জেলা, পুঠিয়া উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন আ.লীগ ছাড়াও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকলেও অনেক নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি।

সভায় উপজেলা আ.লীগের সভাপতি কাজি আবদুল ওয়াদুদ দারা, কয়েকটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলামসহ সহযোগী অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীই উপস্থিত ছিলেন না।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, সেদিনের মতবিনিময় সভায় আমাদের ডাকা হয়নি উল্টো আমার পৌর ভবনের সামনে দিয়ে কলেজ মাঠে সভায় যাওয়ার সময় অনেকে উস্কানিমুলক মন্তব্য করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত দিনে আমি বর্তমান সাংসদ আবদুল ওয়াদুদ দারার সাথে রাজনীতি করে এসেছি তাই আমাদের বাদ দিয়ে আ.লীগের বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রার্থী নিজেও আজ পর্যন্ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি বলেও জানান এ যুবলীগ নেতা।

এব্যপারে জানতে চাইলে নৌকার নতুন মাঝি ডা. মনসুর রহমানকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন, আমি একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আছি। পরে রাতে আপনার সাথে কথা বলছি বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অন্যদিকে, এ আসনে বিএনপি থেকে চার জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে গত ২ ডিসেম্বর যাচাই বাছাইয়ে নাদিম মোস্তফা ও আবু বক্কর সিদ্দীকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবী মনোনয়ন প্রাপ্ত ৪ জনের মধ্যে এড. নাদিম মোস্তফার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ফলে সরকার উদ্দেশ্য প্রণদিতভাবে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।

নাদিম মোস্তফার মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় তৃণমুল বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশার মধ্যে রয়েছেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে পুঠিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুল হক আসাদ বলেন, পুঠিয়া দুর্গাপুরে নাদিম মোস্তফার ব্যাপক জনপ্রিয়তা তাই সরকার উদ্দেশ্য প্রণদিতভাবে মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন। এতে তৃণমুল নেতাকর্মীরা হতাশায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আল মামুন খান জানান, নাদিম মোস্তফা নির্বাচনে অংশ নিলে এক তৃতীয়াংশ ভোটে বিজয়ী হবেন। তাই ইচ্ছে করেই তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে আমাদেরই জয় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এ বিএনপি নেতা।

প্রশঙ্গত, গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই অনুষ্ঠানে ঞ্চণ খেলাপি ও হলফনামায় তথ্যগোপনের অভিযোগে নাদিম মোস্তফার মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

স/অ

Print