নতুন আদমশুমারির প্রস্তুতি শুরু করেছে বিবিএস

December 6, 2018 at 7:25 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আদমশুমারি বা জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ষষ্ঠবারের মতো ২০২১ সালে এ শুমারি অনুষ্ঠিত হবে। এর অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে ‘পপুলেশন অ্যান্ড হাউজিং সেনসাচ ২০২১ : প্রসপেক্ট অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক কর্মশালার।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান

ভবনে এটি আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং জাতিসংঘের ইউএনএফপিএ। এতে জানানো হয়, এবারই প্রথম অস্থায়ী প্রবাসীদের শুমারির সময় গণনার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

তাছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। তাছাড়া শুমারি পরিচালনার ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিভিন্ন মোডালের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য একত্রিতকরণ, চর, পাহাড়, ক্যন্টনমেন্টসহ বিভিন্ন প্রান্তিক ও সংরক্ষিত এলাকায় শুমারি পরিচালনা এবং বড় শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য নিয়ে আসা।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক কৃষণা গায়েনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং ইউএনএফপিএর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. আশা তরকেলশন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আদমশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল হক সরদার। বক্তব্য রাখেন বিবিএসের উপ-মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে জাহিদুল হক সরদার জানান, এর আগের আদমশুমারিতে মোট ২৫টি প্রশ্নপত্র ছিল। কিন্তু নতুন আমদশুমারিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রশ্নপত্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসডিজির ১০টি লক্ষ্যের ২৫টি সূচকের তথ্য উঠে আসবে এ শুমারির মধ্য দিয়ে। আমদশুমারি থেকে যে তথ্য পাওয়া যাবে সেখান থেকে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে কাজে লাগানো যাবে। শুমারিটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল ‘মাল্টি মোডাল’ জরিপ পরিচালনা করা হবে।

অর্থাৎ সরাসরি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ট্যাব, কল সেন্টার ইত্যাদির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহণ করা হবে। যারা আদমশুমারিতে তথ্য দেবেন তারা পরবর্তীতে এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পাবেন তাদের গণনা করা হয়েছে কিনা।

তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রথমবার ১৯৭৪ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৮১ সাল, ১৯৯১ সাল, ২০০১ সাল এবং সর্বশেষ ২০১১ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজিবুর রহমান বলেন, শুমারির বাইরে যাতে কেউ না থাকে সেজন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফলকে কাজে লাগাতে হবে। যাতে সবাইকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়।

বিশেষ অতিথি সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন, প্রতি দশ বছর পর পর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আদমশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম করে আসছে। পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী যা এখন জনশুমারি নামে পরিচিত হবে।

তিনি বলেন, জনশুমারি থেকে দেশের সব এলাকার সঠিক জনসংখ্যার তথ্য পাওয়া যায়। দেশের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্য এই শুমারি অপরিহার্য।

তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৫০ সদস্যবিশিষ্ট ন্যাশনাল ডাটা কোঅর্ডিনেটর কমিটি (এনডিসিসি) গঠন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে তথ্যের সত্যতা যাচাইসহ তথ্য প্রদানকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে কৃষ্ণা গায়েন জনশুমারি ও গৃহগণনায় বর্তমানে ডিজিটাল ক্ষেত্রের অগ্রগতি হওয়ায় আগের শুমারিতে ব্যবহৃত তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়া পদ্ধতির সঙ্গে এলাকাভিত্তিক আধুনিক পদ্ধতি সংযোজন করার তাগিদ দেন।

Print