জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে

মাঠ পর্যায়ে নৌকার পালে হাওয়া, প্রার্থী চুড়ান্ত না হওয়ায় নীরব বিএনপি

December 6, 2018 at 6:01 pm

এস এম শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীরা খুশিতে ভরপুর। এ আসনে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে একক প্রার্থী হিসেবে পেয়ে নেতা-কর্মীরা অনেকটাই চাঙ্গা হয়েছেন। নৌকার মাঝি হিসেবে ফিরে পেয়েছেন তাদের কাঙ্খিত নেতাকে। নেতা-কর্মীদের খুশিতে এবং সাধারণ ভোটারদের গঞ্জনে বলতে গেলে মাঠ পর্যায়ে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে।

অপরদিকে এ আসনে বিএনপি একাধীক দলীয় প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে মনোনয়নের প্রত্যায়নপত্র দেওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে নীরব ভূমিকা পালণ করছেন বলে একাধীক নেতা-কর্মী জানান।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী জয়পুরহাট-২ আসনে আওয়ামীলীগের বর্তমান সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনি সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বিএনপি’র সাবেক দুই সাংসদ গোলাম মোস্তফা ও আবু ইউসুফ মো: খলিলুর রহমান, জাতীয় পার্টির আবুল কাশেম,বামগণতান্ত্রিক জোটের বাসদ (মার্কসবাদী) শাহ জামাল তালুকদার, জাসদের আবুল খায়ের মো: সাখাওয়াত হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আব্দুল বাকি মিলে মোট ৭ জন প্রার্থী তিনটি উপজেলার সহকারি রিটানিং এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আওয়ামীলীগের একক প্রার্থী বর্তমান সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে আনন্দ উৎসবের আমেজ বইছে। তাদের মধ্যে নৌকা প্রতীককে এ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করতে উৎসাহ উদ্দিপণা লক্ষ্য করা গেছে।

ইতমধ্যে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সর্বদা একক প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচার-প্রচারণাও চালাতে শুরু করেছেন। তারা গ্রামে-গ্রামে, হাট-বাজারে, মাঠে-ঘাটে, চায়ের দোকানে এমনকি বাড়ী বাড়ী গিয়ে সাধারণ ভোটারদের নিকট দোয়া ও ভোট চাইছেন। এ আসনে তারা নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করে বিজয় ছিনিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাধারণ ভোটারদের মাঝে দৃশ্যমান কাজের কথা উল্লেখ করছেন। সাধারণ ভোটারদের দোয়া ও ভোটে নৌকার বিজয় হবেই বলে একাধীক নেতা-কমী জানান।

অপরদিকে এ আসনে বিএনপি থেকে একাধীক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তাদের নেতা-কর্মীরা রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ও হতাশায়। সে কারণেই স্থানীয় নেতা-কর্মীরা নিরব ভূমিকা পালন করছেন। যেখানে প্রার্থী চুড়ান্ত করতে এত দ্বিধাদ্বন্দ্ব সেখানে আর কি হতে পারে বলে জানান নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধীক নেতা-কর্মী।

তারা আরও জানান, সাবেক সাংসদ আবু ইউসুফ মোঃ খলিলুর রহমান সেনাবাহিনীর সমর্থিত তত্ত্বাকধায়ক সরকারের আমলে বিএনপি ছেড়ে কর্ণেল (অব) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে যোগদান করেন, দল আবার তাকেই বিগত ১০ বছরের পরিক্ষিত নেতা ২০০৮ সালের সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার সাথে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেন। যেখানে কোন্দলের অভাব নেই, সেখানে ভাল কি করে হতে পারে। আজও তাদের দু’জনকে নিয়ে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে জল্পনাকল্পনার শেষ হয়নি।

জয়পুরহাট জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন মন্ডল বলেন, রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এমনটাই করা হয়েছে। কোন কারণে একজন প্রার্থী বাতিল হলে সে ক্ষেত্রে অন্য জন থাকবে। ২/১ দিনের মধ্যে এ বিষয় পরিস্কার হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত দল যাকে রাখবে, সবাই মিলে তার হয়েই কাজ করবে নেতাকর্মীরা। সুষ্ঠ ভোট হলে এ আসনে ধানের শীষের বিজয় হবে হবেই।

জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন বলেন, আগামী নির্বাচনে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। বিগত ১০ বছরে এ অঞ্চলে যে পরিমান উন্নয় হয়েছে, তাতে জনগণই নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাদেরই বিজয়ী করবে ইনশাল্লাহ।

স/অ

Print