রাজশাহীতে বিএনপির ৩ হেভিওয়েট প্রার্থীর বিকল্প, তবুও বিপাকে নেতাকর্মীরা

December 6, 2018 at 4:07 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে তিনটিতেই বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যদিও তিনটি আসনেই এখনো বিএনপির বিকল্প প্রার্থী রয়েছে এখনো। বাতিল হওয়া তিন হেভিওয়েট প্রার্থীই আপীল আবেদন করেছেন মনোনয়ন ফেরতের আশায়। কিন্তু তিনজন আদৌ মনোনয়ন ফিরে পাবেন কিনা-তা নিয়ে যেমন সংশয় রয়েছে, তেমিন বিপাকেও পড়েছে দলটির তিন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা কার হয়ে ভোটের মাঠে নামবেন এ নিয়েও দেখা দিয়েছে দ্বিধা-বিভক্ত।

বাদ পড়া তিন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফা এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ চাঁদ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই তিন প্রার্থীর বিকল্প হিসেবে রাজশাহী-১ আসনে ব্যারিস্টার আমিনুলের স্ত্রী আভা হক ও বিএনপির আরেক নেতা শাহাদৎ হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে শাহাদাৎ হোসেনেরও মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এখন শুধু প্রার্থী রয়েছেন আভা হক। ফলে আমিনুলের মনোনয়ন ফিরে না পেলে তাঁর স্ত্রীই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন-এটা প্রায় নিশ্চিত।

অন্যদিকে রাজশাহী-৫ আসনে নাদিমের বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আরো তিনজনকে। তাঁরা হলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মণ্ডল, বিএনপি নেত্রী মাহমুদা হাবিবা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আবু বাক্কার সিদ্দিককে। তবে আবু বাক্কার সিদ্দিকের মনোনয়নপত্রটিও বাতিল হয়েছে। ফলে এখনে এখানে প্রার্থী রয়েছেন নজরুল ইসলাম ম-ল ও মাহমুদা হাবিবা।

অপরদিকে রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদের বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে বিএনপি নেতা নূরুজ্জামান খান মানিক ও বজলুর রহমানকে।

জেলার গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সরকার ইচ্ছেকৃতভাবেই আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হককে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে তাঁর মনোনয়নপত্রটি বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে দুর্বল করতেই এটি করা হয়েছে। যদিও আমিনুল হকের স্ত্রী আভা হক বিএনপির মনোনীত বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। কিন্তু তাঁর হয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে সেভাবে উৎসাহ পাবে না। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীরা অনেকটাই মানসিভাবে ভেঙে পড়েছেন।’

তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন আরো ঐক্যবদ্ধ। তবে আমাদের নেতার মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় কিছুটা হলেও আমরা উগি¦গ্ন। আশা করি তিনি মনোনয়ন ফিরে পাবেন। তার পরেও নির্বাচন সুষ্ঠ হলে আমরা বিকল্প প্রার্থীর জন্যেও মাঠে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। নেতাকর্মীরাও ধানের শীষ প্রতীকে মাঠে নামতে উগ্রিব হয়ে আছেন।’

জেলার দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাদিম মোস্তফার বিকল্প প্রার্থী হয় না। তাকে সরকার ভীত হয়েই তাঁকে নির্বাচন থেকে সরাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। তিনি নির্বাচনে থাকলে এখানে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে মাঠে লোক খুঁেজ পাওয়া যাবে না। এ কারণেই নাদিম মোস্তফাকে কৌশলে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আশা করি তিনি মনোনয়ন পিরে পাবেন।

পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, নাদিম মোস্তফা এই আসনে অত্যধিক জনপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি নির্বাচনে থাকলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে এক তৃতীয়াংশ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করবেন বলে আশা করি। এই ভয়ে আওয়ামী লীগ কৌশলে নাদিমকে সরাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। তবে আশা করি তিনি মনোনয়ন ফিরে পাবেন।

বাঘা যুবদলের আহ্বায়ক আবু সালেহ সালাম বলেন, ‘আশা করছি আবু সাইদ চাঁদ মনোনয়ন ফিরে পাবেন। তাঁর ন্যায্য অধিকার তিনি পাবেন। তবে চাঁদ মনোনয়ন না পেলে এই আসনের নেতাকর্মীরা কিছুটা হলেও মানসিকভাবে দুর্বল হবেন।’

স/আর

Print