খালেদা জিয়ার নির্বাচন করা আবারো অনিশ্চিত, রোববারই চূড়ান্ত ফয়সালা

December 1, 2018 at 11:12 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আগামী ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির কারাভোগরত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘অংশ নিতে পারবেন’ – এমন একটা সম্ভাবনা তৈরি হবার ২৪ ঘন্টা পরই আবারো তা নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এবং তা তৈরি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের শনিবারের এক সিদ্ধান্তে।

এর আগে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একক একটি বেঞ্চ দুটি দুর্নীতির মামলায় সাবিরা সুলতানা নামে একজন বিএনপি নেত্রীকে নিম্ন আদালতের দেয়া মোট ছ’বছরের কারাদন্ডের সাজা স্থগিত করেছিলেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের রায়ে সাজা স্থগিত হবার পর দন্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিতও হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন – এমন দৃষ্টান্ত আছে। তাই বৃহস্পতিবারের রায়ের ফলে ‘খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য সাজাপ্রাপ্ত রাজনীতিকরা হয়তো নির্বাচন করতে পারবেন’ এমন সম্ভাবনা তৈরি হয় ।

কিন্তু শনিবারই সরকারের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রীম কোর্টের চেম্বার আদালত বৃহস্পতিবারের আদেশটি স্থগিত করে পূর্ণ আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে কারো দু’বছরের বেশি কারাদন্ড হলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না – সেই পূর্বতন আদেশটিই বহাল থাকলো।

আজকের আদেশের পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, খালেদা জিয়ার মতো দন্ডপ্রাপ্তদের নির্বাচন করার আর কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন

তিনি বলেন, “দন্ডপ্রাপ্তরা নির্বাচন করতে পারবে না এ মর্মে এর আগে দুটি বেঞ্চ যে রায় দিয়েছিলেন – ফুল কোর্ট তা বহাল রেখেছেন। কিন্তু শনিবার একটি সিঙ্গল বেঞ্চ বিপরীতমুখী স্টে অর্ডার দেবার পর এর বিরুদ্ধে আমরা চেম্বারে গিয়েছিলাম। চেম্বার তা স্টে করে আবার ফুল কোর্টে দিয়েছেন। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে যা আছে – তাকে অগ্রাহ্য করে কোন কোর্ট সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে পারে না।”

এর মানে কি এই যে খালেদা জিয়া আর নির্বাচন করতে পারবেন না? -এ প্রশ্নের উত্তরে এটর্নি জেনারেল বলেন,”আমার অভিমত তাই।

বিএনপি অফিসের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড়
বিএনপি অফিসের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড়

“রোববার বেলা এগারোটার মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে হবে – কারণ কালই মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হয়ে যাবে। এরপর তো আর কেউ নতুন ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। আর আগামীকাল তারা ভিন্নতর আদেশ দেবেন এটা তো মনে হয় না। কারণ এ্যাপীলেট ডিভিশনকে তো ইউনিফর্ম অর্ডার দিতে হবে” – বলেন তিনি।

আগামী কাল রোববারই নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ করবে।

সাবিরা সুলতানার আইনজীবী এবং বিএনপি আইনজীবী পরিষদের সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম অবশ্য বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের রোববারে সিদ্ধান্তের পরই শুধু বলা যাবে খালেদা জিয়াসহ আরো অনেকের ভাগ্যে কি ঘটবে।

মি. ইসলাম বলেন, “আজকে চেম্বার বিচারপতির কাছে দুই পক্ষের শুনানী হয়েছে। আগামীকাল সকাল নয়টায় এ বিষয়টা শুনানীর জন্য আসবে। আমরা আশা করছি যে ১০টার মধ্যে বিষয়টা শুনানী হয়ে যাবে। শুনারীর পর ফুল কোর্ট যদি হাইকোর্ট ডিভিশনের আদেশটা যদি বহাল রাখেন তাহলে সাবেরা সুলতানা সহ এরকম যারা আছেন সকলেই তার বেনেফিট পাবেন। আর যদি তা না হয় – তাহলে তো তাদের আর নির্বাচনে প্রার্থী হবার সুযোগ থাকবে না।”

এর পর কি খালেদা জিয়া বা তার মতো দন্ডপ্রাপ্ত কারো পক্ষে নির্বাচন করার আর কোন সুযোগ থাকবে?

আমিনুল ইসলাম একেবারে সম্পূর্ণ আশা ছেড়ে দিচ্ছেন না।

তার কথা: “এটা নির্ভর করে কি ফর্মে আদেশটা হয়। তারা সিপি সহ আসার জন্য বলতে পারেন, রেগুলার এ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আসার জন্য বলতে পারেন, নো অর্ডার করতে পারে … নো অর্ডার করলে আপাতত আমাদের কিছু করার নেই । ইন দ্য মিনটাইম স্ক্রুটিনিতে তারা যদি বাদ পড়ে যায়, তাহলে তারা হয়তো আপীলেআসতে পারে, অথবা রীটআবেদন করতে পারে। এজাতীয় নানা প্রসিডিউর আছে।”

বায়লাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩০শে ডিসেম্বর
দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩০শে ডিসেম্বর

কয়েকদিন আগে বিএনপির পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তাদের সাজা ও দণ্ড স্থগিত করার জন্যে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন।

তখন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছিল যে কারো দু’বছরের বেশি দণ্ড বা সাজা হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলছেন, “সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে নৈতিক স্খলনের কারণে কেউ যদি দুই বছর কিম্বা তারও বেশি সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।”

খালেদা জিয়া এখন দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

বিএনপির নেতারা আশা করছিলেন যে তাদের নেত্রী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং সেজন্যে তাকে পাঁচটি আসনে মনোনয়নও দেওয়া হয়।

Print