শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি ঘুচিয়ে দেব ইনশাল্লাহ: কাদের সিদ্দিকী

November 9, 2018 at 5:29 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“তদিন বেঁচে থাকবো বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধরে বেঁচে থাকবো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর জিয়াউর রহমানের এই যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব করে যারা দেশকে লুটে পুটে খাচ্ছে। আল্লাহ যাদি আমাকে সময় দেয় তাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি মিটিয়ে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন”

আজ শুক্রবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া ২০১৫সালে লাগাতার হরতাল দিয়েছিলেন আমি উনাকে হরতাল প্রত্যাখান করতে অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি হরতাল প্রত্যাখান করতে পারেন নাই।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, এর আগে শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম আলোচনায় বসুন, বসেননি। এবার আলোচনায় বসেছেন। যেদিন আলোচনায় বসেছেন সেদিনই আপনাদের বিজয় হয়েছে। আপনারা কি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় চান। বাংলাদেশের রাজনীতি মানেই খালেদা জিয়া, তাকে বন্দি রাখা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দেয়নি। শেখ হাসিনা রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আপনাদের দুসময়ে এই মিটিং এ যেকটা মেয়ে এসেছে, এর অর্ধেকটি মেয়ে থাকলে আমার দলে আমি শেখ হাসিনাকে সরকার থেকে তিন দিনের মধ্যে ফেলে দিতে পারি।

তিনি অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইল থেকে সড়কপথে এসেছি, রাস্তায় রাস্তায় বাধা এসেছে। আমাকেও ফেরাতে পারেনি। এই মাঠের মানুষদেরও পারেনি। হাসিনা কথা দিয়েছিলেন জনসভায় বাধা দেবেন না। কিন্তু আমার গাড়ি পাঁচবার ধরেছে। তারপর আমাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে। আমি খুজে বের করবো। তাদের মাথা আমি ঘুরাই দেব।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে জনসভায় উপস্থিত আছেন, বিএনপি মহাসচিব জনসভার প্রধান আলোচক মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

তবে, অসুস্থতার কারণে সমাবেশে যোগ দেবেন না ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন।

এছাড়া জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর এ্যানি, নির্বাহী সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।

এদিকে, দুপুরের পর থেকেই জনসভা স্থলে আসতে শুরু করে নেতাকর্মীরা। খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে তার মাদ্রাসা ময়দানে যোগদান করেন।  বাস না থাকায় আশেপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে ছোট ছোট যানবাহন নিয়ে লোকজন আসে।  রাজশাহী অভিমুখী নেতাকর্মীরা আসতে পদে পদে সমস্যায় পড়েছেন বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন সমাবেশ পরিচালনা করছেন।

স/অ

Print