সিনহা প্রসঙ্গ : প্রমাণ ছাড়া মামলা করবে না দুদক

September 24, 2018 at 5:52 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, আমরা অনুসন্ধান করছি কি না-এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর দেওয়া সম্ভব না।

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে দালিলিক প্রমাণ বের করতে হবে। তারপর বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত দালিলিক প্রমাণ ছাড়া দুদক কারো বিরুদ্ধে মামলা করবে না।’

সোমবার বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অনুসন্ধান করছি কি না-এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর দেওয়া সম্ভব না। দুদক দুজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঋণ নিয়ে ওই টাকা অবৈধভাবে অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। ওই অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া যাবে না। আমাদেরকে দালিলিক প্রমাণ দিয়ে টাকা কোথায় ও কীভাবে গেল সে বিষয়টি খুঁজে বের করতে হবে। তারপর বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত দালিলিক প্রমাণ ছাড়া দুদক কারো বিরুদ্ধে মামলা করবে না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে যখন মামলা করবে, তখনই মামলা হবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘মন্ত্রী কি বলেছেন, সেটা আমার বিষয় না। তিনি বলতেই পারেন। তাছাড়া মন্ত্রীর কথায় তো দুদক মামলা করবে না। দুদক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রীর কোনো কথার কোনো প্রভাব দুদকে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

এর আগে গত ৬ মে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুই ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি টাকা স্থানান্তরের বিষযে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ওইদিন তাদের সঙ্গে আসা তাদের দুই আইনজীবী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন এস কে সিনহাকে তার বাড়ি বিক্রির ৪ কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে। আইনজীবিরা হলেন-আফাজ মাহমুদ রুবেল এবং নাজমুল আলম।

আইনজীবীরা বলেন, এস কে সিনহার উত্তরার ৬ তলা বাড়িটি ৫ কাঠা জমির ওপর ছিল। এ বাড়িটি ২০১৬ সালের শুরু দিকে টাঙ্গাইলের বাসিন্দা শান্ত্রি রায় ৬ কোটি টাকায় ক্রয় করেন। এ সময় বায়না দলিলকালে তিনি ২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিলেন। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য নিরঞ্জন ও শাহজাহানের সহযোগিতা নেন। নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা শান্ত্রি রায়ের স্বামী রনজিতের চাচা (চাচা শশুর)। আর শাহজাহান রনজিতের বন্ধু।

তারা বলেন, বাড়ি কিনতে বাকি ৪ কোটি টাকা ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে নিরঞ্জন ও শাহজাহান ২ কোটি টাকা করে মোট ৪ কোটি টাকা ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে শান্ত্রি রায় জামিনদার হন। জামিনদার হিসেবে টাঙ্গাইল ও ঢাকার আশে-পাশের বেশকিছু জমি বন্ধক রাখেন শান্ত্রি।

তাদের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালের মে মাসে জমির বায়না দলিল হয় এবং ওই বছরের ৮ নভেম্বর দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এস কে সিনহা সোনালি ব্যাংক সুপ্রিম কোর্ট শাখার মাধ্যমে চার কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পে-অর্ডারের পরে ২৪ নভেম্বর হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে বাড়িটি শান্ত্রি রায়কে বুঝিয়ে দেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণের নামে আত্মসাৎ ও পে-অর্ডারে এক ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেওয়ার অভিযোগে ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ওই দুই ব্যবসায়ীর ঢাকার উত্তরায় তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এবং টাঙ্গাইলের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়।

দুদক সূত্র আরো জানা যায়, ২০১৬ সালে ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা শাহজাহান ও নিরঞ্জন ঋণ নেন। এরপর একই বছরের ১৬ নভেম্বর সেই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেন। ওই বিষয়ে সম্প্রতি দুদকে আসা এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তা যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

স/আন

Print