ধোনির উত্থান আমার হাতেই: সৌরভ

July 31, 2018 at 10:11 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সৌরভ গাঙ্গুলীর হাত ধরেই ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছে বীরেন্দ্র সেবাগ, হরভজন সিংহের। এমনকি ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনির উত্থান হয়েছেন সৌরভের হাত ধরে। এমনটিই বলছেন ভারতের কিংবদন্তি এ ক্রিকেটার।

সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, ২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে ভারতীয় দলে অভিষেক হয় ধোনির। ক্যারিয়ারের প্রথম চারটি ম্যাচে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিল ও। পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশাখাপত্তনে আমাদের খেলা ছিল। টিম মিটিংয়ে স্থির হয় ধোনি সাত নম্বরেই ব্যাট করতে নামাব।

সেই ম্যাচে সাতের পরিবর্তে ধোনি নেমেছিলেন তিনে ব্যাট করতে। ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে সুযোগ পেয়ে তাণ্ডব চালিয়ে দেন ধোনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেদিন ১২৩ বলে ১৫টি চার ও চারটি ছক্কায় ১৪৩ রানের ইনিংস খেলেন ধোনি।

ধোনিকে উপরে ব্যাটিং করা নিয়ে সৌরভ বলেন, ম্যাচের আগেরদিন আমি আমার ঘরে বসে টিভিতে খবর দেখছিলাম। তখনই ভাবছিলাম, কীভাবে ব্যবহার করলে ধোনির কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনা যাবে। পরের দিন টসে আমরা জেতার পরে স্থির করি ধোনিকে তিন নম্বরেই পাঠাব। যা হয় পরে দেখা যাবে।

অব্শ্য ব্যাটিংয়ে নামার আগে ধোনি জানতেন সাত নম্বরে যাবেন। কিন্তু সৌরভ যে মত বদলেছেন তা জানতেন না ধোনিও।

সৌরভ বলেন, ব্যাটিংয়ে নামার আগে আমি গিয়ে ওকে বলি তুমি কি তিন নম্বরে যাবে? ধোনি তখন জিজ্ঞাসা করে,তুমি কত নম্বরে যাবে? তখন আমি বলি চার নম্বরে ব্যাট করতে যাবো। তুমি তিন নম্বরে যাবে।

সৌরভের কথায় দ্বিমত না করে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে যান মহেন্দ্র সিং ধোনি। মাঠে নেমেই পাকিস্তানের বিপক্ষে উত্তেজনাকর সেই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন। খেলেন ১৪৮ রানের ঝড়ো ইনিংস।

ধোনির সেঞ্চুরিতে নয় উইকেটে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক ভারত। জবাবে আশিষ নেহরার গতি এবং যুবরাজ সিংহের স্পিনে কাবু হয়ে ৪৪.১ ওভারে ২৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ৫৮ রানে জয় লাভ করে সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন ভারত।

সেই দিনের ১৪৩ রানের ইনিংসের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। এরপর পরবর্তী সময়ে ভারতীয় দলের অধিনায়কের ভূমিকা পালন করেন মহেন্দ্র সিং। তার অধিনায়কত্বে ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে নেয় ভারত।

Print