পুঠিয়ায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে পুকুর দখলের অভিযোগ

July 20, 2018 at 6:05 pm

পুঠিয়া প্রতিনিধি:

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নে খাস পুকুর ইজারাদারের কাছে চাঁদা দাবী করে না পাওয়ায় পুলিশের উপস্থিতিতে অস্ত্রহাতে জোরপূর্বক পুকুর দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ইজারা নেয়া পুকুর  অবৈধভাবে দখল নিতে বাঁধা দেওয়ায় ওই যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে ১৫/২০ জন ব্যক্তি দেশিয় অস্ত্র হাতে তাদের ধাওয়া দিয়ে পুকুর পাড় থেকে তাড়িয়ে দেয়। এ সময় মাছ চাষীদের লক্ষ করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করার ঘটনাও ঘটে। এতে পুকুর ইজারাদার দু’জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আহতরা হলেন, কামার ধাদাস গ্রামের নাজিম উদ্দিন সরকারের ছেলে মাছ চাষী শাহিন পারভেজ (৩৯) ও আনোয়ার হোসেন (৩৫)।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের কামার ধাদাস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুকুর ইজারাদার শাহিন পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছরের গত ৫ এপ্রিল উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের কামার ধাদাস এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২ একর আয়তনের দুটি খাস পুকুর উপজেলা প্রশাসনের থেকে নিতিমালা অনুযায়ী টেন্ডারের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকায় ৩ বছরের জন্য ইজারা নেয়া হয়েছে।

ইজারা নেয়ার পর থেকেই কামার ধাদাস এলাকার সাইফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম সহ জামায়াত সমর্থিত ৮/১০ জন ব্যক্তি পুকুরে মাছ চাষ করতে বিভিন্ন ভাবে বাঁধা দিয়ে আসছে এবং এদের মদদ দিচ্ছে যুবলীগ নেতা সুমন। এব্যপারে গত ১৫ জুলাই ৮ জনকে আসামী করে বেলপুকুর থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে। অথচ অজ্ঞাত কারনে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা নেয়নি এমনকি এজাহার দাখিলের ৪ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমনুজ্জামান সুমনের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন ব্যক্তি ককটেল, চাপাতি, ফালা, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুকুর দখল নিতে এসে আমাদের অশ্লিলভাষায় গালাগালি করতে থাকে। তৎক্ষনাত বিষয়টি বেলপুকুর থানা পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে পুলিশের সামনেই তারা পুকুর পাড় থেকে অস্ত্র হাতে আমাদের ধাওয়া করে এবং আমাদের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এমনকি পুকুর পাড়ে গেলে আমাদের সবাইকে লাশ বানিয়ে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

তিনি আরো বলেন, পুরো ঘটনা পুলিশের সামনেই ঘটেছে অথচ তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও কোন লাভ হয়নি। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। মাছচাষী সাহিন বলেন, গত বারও আমরা এলাকার একটি সংগঠনের নামে সর্বচ্চ মুল্যদিয়ে পুকুরটি ৩ বছরের জন্য ইজারা নেই সে সময় যুবলীগ নেতা সুমনকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়েছিলো। কিন্তু এবার চাঁদার টাকা না দেয়ায় থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে বিএনপি জামায়াতের লোকজন নিয়ে পুকুর চাষে আমাদের বাঁধা প্রদান করছে।

এ  ব্যপারে পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করলেও কোন সুরাহা হয়নি। এব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক সুমনউজ্জামান সুমনের ব্যবহীত মোবাইল নাম্বারে ফোন করা হলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।

এ ব্যপারে বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শাহিন ও আনোয়ার একটা গ্রুপ। তারা বৈধভাবে পুকুরটি ইউএনও অফিস থেকে ইজারা নিয়েছে তবে আমাদের বেলপুকুরের চেয়ারম্যানের ছেলে সুমন ও এলাকাবাসী তাদের পুকুরটিতে মাছ চাষ করতে দিবেনা। মুলত একারনেই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।

আইন অনুযায়ী তারা কি পুকুর চাষে বাঁধা দিতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এখন ওরা ক্ষমতায় আছে এমপি সাহেবের পক্ষের লোক বোঝেন না? এখনও পুকুরটি বেদখল হয়নি।

পুলিশের সামনে অস্ত্র নিয়ে এধরনের ঘটনা ঘটানোর ব্যপারে জানতে চাইলে ওসি বলেন, দু’পক্ষই উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলো দু’পক্ষই অস্ত্র হাতে ছিলো, পুলিশ দু’পক্ষকেই থামিয়ে দিয়েছে। ইজারার বিষয়টি পুরোটাই ইউএনও অফিসের ব্যপার তবে আজ ফৌজদারী আইন ভঙ্গ হয়েছে এব্যপারে তারা থানায় মামলা করলে আমরা মামলা নেব।

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনার কথা শুনেছি তবে চাঁদা দাবী করার বিষয়টি আমার জানা নেই। পুকুরটি ইজারা দেয়ার পর তাদের পুকুরটি দখল নিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন কেও পুকুর চাষে বাঁধা দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এ ব্যপারে আমাদের কিছু করার নেই।

স/শ

Print