দুর্গাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচারের প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর

দুর্গাপুর প্রতিনিধি:
দুর্গাপুর মাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান ফারুক ইমামের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচারের প্রতিবাদে গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেছে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা । মঙ্গল ও বুধবার স্কুল চলাকালীন সময় প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেন।গণস্বাক্ষর কর্মসূচীতে স্বাক্ষরকারীরা প্ররচনাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক সাস্থির দাবি করেন।

জানা গেছে, মাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের টিসি প্রাপ্ত নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাইম দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠে। তার কারনে অত্র প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ছাত্র ছাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে লেখা পড়া চালিয়ে আসছিলেন। নাইম তার স্কুলের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের ইভটিজিং, মারধর, হুমকিসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ করে আসছিলো। যার কারনে স্কুলের সকল শিক্ষার্থীদের ভবিস্যতের কথা চিন্তা করে প্রধান শিক্ষক হাসান ফারুক ইমাম সুমন নাইমের পরিবারে সম্মতি ক্রমে নাইমকে গত শনিবার টিসি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
গত সোমবার নাইম ওই স্কুলে গিয়ে রোল কল না করায় হট্টগোল শুরু করে দেয়। এক পর্যায়ে উপস্থিত ক্লাস রুমে শিক্ষক আঃ বাক্কারের সাথে অশোভনীয় আচরণসহ হুমকি ধামকি প্রদান করতে থাকে। পরে নাইম সহকারী প্রধান শিক্ষিকা ফাইমা বেগমের কাছে গিয়ে নাম কল করা হয়নি কেন বলে তার সাথেও খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরবর্তীতে সে প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে উগ্র মেজাজ দেখিয়ে তার নাম ডাকা হয়নি কেন বলে জানতে চায়।

তাকে বলা হয় তোমাকে এই প্রতিষ্ঠান হতে টিসি দেওয়া হয়েছে যার কারনে তোমার নাম কল করা হয়নি। একথা বলতেই নাইম প্রধান শিক্ষকের উপরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেই গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক তাকে একটি থাপ্পড় দেয়। এরই জের ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিসামূলক এক শ্রেণীর অর্থলোভী মানুষ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষাথী সাহারীয়া,সজল, রিপন ও মিমসহ একাধীক ছাত্র-ছাত্রী জানান, নাইমের কারণে তারা প্রতিনিয়ত স্কুলে আসতে ভয় পায়। সে সবার সাথে খারাপ আচরণসহ অপবাদ ও মারধর করতো। যার কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্টসহ প্রধান শিক্ষকের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে তারা গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেন।

মাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসান ফারুক ইমাম সুমন জানান, নাইম বেশ কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ে একাধীক ছাত্র-ছাত্রীদের ইভটিজিং, মারধরসহ বিভিন্ন অপরাধমূল কর্মকান্ড করে আসছিলো। অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই তাকে টিসি দেওয়া হয়। অথচ আমি রাজনীতি করার কারনে এক শ্রেণীর মানুষ এধরনের ঘটনাটি অন্য খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি এ ধরনের অপপ্রচারের প্রতিবাদের তার প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।

স/শ

Print