উত্তরা গণভবন দর্শণার্থীদের জন্য ৮০ভাগ এলাকা উন্মুক্ত: সংগ্রহশালার যাত্রা শুরু

March 9, 2018 at 4:22 pm

মাহবুব হোসেন:
রাজধানীর বাহিরে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বাসভবন নাটোরের উত্তরা গণভবন দর্শনার্থীদের জন্য ৮০ভাগ এলাকা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজার আমলের ব্যবহৃত শতাধিক জিনিসপত্র নিয়ে গণভবনে সংগ্রহশালার উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গণভবনের ৮০ভাগ এলাকা এবং সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। এ সময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুর-উর রহমান, জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরি জলি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলাম সহ সরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০০৮সালে সীমিত আকারে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন উত্তরা গণভবন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর ২০১২সালের অক্টোবর মাসে দর্শণার্থীদের জন্য গণভবন উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু সে সময় উন্মুক্ত করে দেয়া হলেও গ্র্যান্ডমাদার হাউস, লেক, রাণীমহল, হরিণচূড়া ও আম্রকানন দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশের নিষেধাক্কা ছিল। এতে করে একজন দর্শক গণভবনে প্রবেশ করে পুরো এলাকা ঘুরতে পারতো না। পরে নাটোর জেলা প্রশাসন গণভবনের ৮০ভাগ এলাকা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার মন্ত্রী পরিষদের সচিব শফিউল আলম গণভবনের গ্র্যান্ডমাদার হাউস, লেক, রাণীমহল, হরিণচূড়া (গণভবন চিড়িয়াখানা) ও আম্রকানন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্তের উদ্বোধন করেন। এতে করে এখন থেকে একজন পুরো এলাকা ঘুরতে পারবে। নিরসন হবে দর্শকদের দীর্ঘ দিনের ক্ষোভ।

সূত্র আরো জানান, টিকিটের টিকিটের বিনিময়ে গণভবনের দেখতে প্রতিমাসে গড়ে অন্তত ১৮হাজার মানুষ ভীড় করে। যা থেকে প্রতিবছর অন্তত ৩২লাখ টাকা সরকারের রাজস্ব কোষাগারে জমা হয়। ৮০ভাগ এলাকা এবং সংগ্রহশালা উদ্বোধনের পর দর্শণার্থীদের ভীড় আরো বাড়বে বলে আশা করছে জেলা প্রশাসন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন এ প্রতিবেদককে জানান, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ মেটাতেই ৮০ভাগ এলাকা উন্মুক্ত করে দেয়া হল। এখন থেকে একজন দর্শক গণভবনের সকল সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। তাছাড়া শিশুদের জন্য হরিনচুড়া, টিয়া পাখি, বানর সংগ্রহ করে চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে। যে কোন দর্শককেই এখন আকৃষ্ট করবে গণভবন।

এদিকে, রাজার আমলের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে সাজানো উত্তরা গনভবনে সংগ্রহশালারও উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এসময় সংগ্রহশালার বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শণ করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও অতিথিরা। উত্তরা গণভবনের পুরাতন ট্রেজারি ভবনে স্থাপিত সংগ্রহশালায় বিভিন্ন রাজার আমলের অন্তত শতাধিক জিনিসপত্র স্থান পেয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৭সালের শেষের দিকে গণভবনের পুরতান ট্রেজারি ভবনে সংগ্রহশালা করার উদ্যোগ গ্রহন করে জেলা প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে তৎকালীন রাজাদের ব্যবহৃত ৩৯টি জিনিসপত্র নাটোর ট্রেজারি অফিস থেকে সংগ্রহ করে সংগ্রহশালায় স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া গণভবনের আশ-পাশ থেকে সিন্দুক, হরিণের মাথা, খাড়াল সহ শতাধিক জিনিসপসপত্র এই সংগ্রহশালায় স্থান দেয়া হয়েছে। এছাড়া গণভবনের আশ-পাশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জিনিসপত্র সংগ্রহ করে এখানে রাখা হয়েছে। তাছাড়া গণভবনে কি কি জিনিসপত্র রয়েছে সেসব জিনিসের ছবি সম্বলিতি দুটি কক্ষে গ্যালারি স্থাপন করা হয়েছে।

গণভবনের সংগ্রহশালার তদারকি কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা তৈরী করার জন্য আমরা দীর্ঘ দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তৎকালীন রাজার আমলে কিকি জিনিসপত্র রয়েছে সেবিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমরা সংগ্রহ করেছি। অনেক আবার নিজ উদ্যোগে এখনও জিনিসপত্র দিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সংগ্রহশালাটি আরো সমৃদ্ধ হচ্ছে। আশা করছি এই সংগ্রহশালায় একজন দর্শক প্রবেশ করলে ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে সকল কিছু ধারনা লাভ করতে পারবে। যেটির দ্বার উম্মোচন করে গেলেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব।
স/শ

Print