ছাত্র পেটানোয় ছাত্রলীগের সাতজন বহিষ্কার

সিল্কসিটিনউজ ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের শিক্ষার্থী এহসান রফিককে নির্যাতনের ঘটনায় সাত শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একজনকে স্থায়ীভাবে, পাঁচজনকে দুই বছরের জন্য আর একজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হচ্ছে। এঁরা সবাই ছাত্রলীগের নেতা।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সভা থেকে এ সুপারিশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা পরিষদ এ সুপারিশ করেছে। আগামী সিন্ডিকেট সভায় এই সুপারিশের বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদিত হলে তা কার্যকর হবে।

শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশের তালিকায় থাকা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের হল শাখার সভাপতি তাহসান আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানের অভিযোগ ছিল, তাহসানের কক্ষেই তাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল।

ছাত্রলীগের হল শাখার সহসম্পাদক ওমর ফারুককে ক্যালকুলেটর ধার দিয়েছিলেন এহসান। তিন মাসেও সেটি ফেরত না দেওয়ায় ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে দুজনের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে রাত দুইটার দিকে এহসান পড়ার কক্ষ থেকে বিছানায় যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের হল শাখার সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম তাঁকে টেলিভিশনের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান।

সেখানে কমিটির জ্যেষ্ঠ বেশ কয়েকজন নেতা মিলে তাঁকে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন শেষে হল থেকে বের করে দেন। এ সময় ফটকের কাছে ওমর ফারুকের নেতৃত্বে তাঁকে আবারও মারধর করা হয়। এতে এহসানের একটি চোখ মারাত্মক জখম হয়। তাঁর কপাল ও নাক ফেটে রক্ত বের হয়। এ ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

ওমর ফারুককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দুই বছরের জন্য বহিষ্কারের তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরাও সবাই দ্বিতীয় বর্ষের। এঁরা হলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামিউল হক, দর্শনের আহসান উল্লাহ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের রুহুল আমিন ব্যাপারী, উর্দু বিভাগের মেহেদী হাসান ওরফে হিমেল, লোকপ্রশাসন বিভাগের ফারদিন আহমেদ। প্রত্যেকেই হল শাখা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা।

এ ছাড়া ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্য সহসভাপতি আরিফুল ইসলামকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রথম আলো

Print