পার্বত্য এলাকায় নানা উন্নয়ন

February 22, 2018 at 9:52 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

১৩,২৯৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম (বর্তমান রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা) অঞ্চলে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বৃটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য তেমন কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল অপেক্ষা এ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ থেকে যায়।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে বিভিন্নমুখী ও বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচী গ্রহণের মাধ্যমে এ অঞ্চল ধাপে ধাপে উন্নয়নের গতিধারায় যুক্ত হতে শুরু করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সর্বপ্রথম রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে এ অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করেন। এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষির উন্নয়নসহ সরকারীর চাকুরী ও স্থানীয় চাকুরীতে পার্বত্যবাসীদের  যৌক্তিক অংশগ্রহণ প্রভৃতি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার পার্বত্য অঞ্চলে ‘আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা’ এ ধারণার আলোকে ১৯৭৬ সালে ৭৭ নং অধ্যাদেশ বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের (আইসিডিপি) আওতায় ইউনিসেফ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে পাড়া কেন্দ্র নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন করছে,যা বর্তমানে তিন পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মানুষের মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। ৪০০০তম পাড়া কেন্দ্র চালুর এই মাইলফলকের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করা ১৬ লাখ মানুষ ও ১১টি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক হবে এবং এটি এখানকার সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখে পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নের ধারাকে আরো গতিশীল করতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে। তন্মধ্যে সমন্বিত পাহাড়ী খামার উন্নয়ন প্রকল্প, কর্মসংস্থান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প, কমলা ও মিশ্র ফসল চাষ প্রকল্প, রাবার ও উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্প এবং সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প সমূহ অন্যতম।

বর্তমানে পার্বত্যাঞ্চলের জনগণের জীবনমান আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষা,স্বাস্থ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের ফলে দারিদ্র্র্যতা যেমন নিরসন হচ্ছে তেমনি জনগণের আয় এবং জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনসাধারণের সার্বিক উন্নয়ন তথা কৃষি, যাতায়াত, শিক্ষা, ক্রীড়া-সংস্কৃতি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, সমাজ কল্যাণ, বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরী দক্ষতা উন্নয়নসহ আয় বর্ধনমূলক খাতে বহুমূখী প্রকল্প গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষি ও মৎস্য চাষ উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণে দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার ২৫টি উপজেলায় দুপাহাড়ের মাঝে ক্রীকের (ঘোনায় মাছ চাষের জন্য বাঁধ) মাধ্যমে মৎস্য চাষের এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় দুশ ক্রীক নির্মাণ করা হয়েছে। আরো পাঁচ শতাধিক ক্রিক নির্মাণের জন্য সম্প্রতি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এসব ক্রিক নির্মাণের ফলে খুব সহসাই পার্বত্য এলাকায় মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং মাছ চাষের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নকল্পে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে আইসিটি ভিত্তিক কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত বেকার জনগোষ্ঠীকে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের উপরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবলে রূপান্তর করে আত্ম-কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

বর্তমান সরকারের সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যয় বিশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগের সরকারের সময় বছরে ৫৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হতো সেখানে আজ হাজার কোটি টাকার ব্যয় বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমতল ও পাহাড়ের মাঝে কোন বৈষম্য রাখেনি। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহযোগিতা আর সরকরের আন্তরিকতায় গড়ে উঠবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ।

Print