১৫০ পদের তরকারি তোতা মিয়ার হোটেলে

February 16, 2018 at 11:45 pm

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

কবুতর, হাঁস, মুরগির ভর্তা—এ রকম ৭০ পদের খাবার। সঙ্গে ৪০ রকমের তরকারি। শুক্র ও শনিবার মানুষ বেশি, তাই ভর্তার সংখ্যাও বেশি। ১৫০ পদের।

এসব খাবারের আয়োজন নিরিবিলি রেস্তোরাঁয়। এটি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক নয়ন বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত। এটা তোতা মিয়ার হোটেল নামেই পরিচিত। তাঁর রেস্তোরাঁর প্রধান আকর্ষণই বাহারি সব ভর্তা। ঘরোয়া পরিবেশ। কোলাহল নেই। বিয়েবাড়ির মতো করে সাজানো চেয়ার-টেবিল। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ মানুষ সেখানে খেতে যান। রান্নার জন্য বাবুর্চি ১৫ জন, আর খাবার পরিবেশনের লোক ৫ জন। খাবার বিক্রি হয় প্যাকেজে—ভর্তা, সবজি ও মাছ-মাংস। ভর্তা ২০০ টাকা, ২০ পদের। সবজি ২০০ টাকা, ১৫ পদের। মাছ-মাংস ১৫০ টাকা, সঙ্গে ভাত।

ব্যবসা শুরুর দিকের কথা বলতে গিয়ে তোতা মিয়া জানান, পরিবারের আট ভাইয়ের মধ্যে তিনি পঞ্চম। জন্ম টোক নয়ন বাজারেই। দরিদ্র পরিবার। তাই লেখাপড়া করতে পারেননি। ছোটবেলায় হোটেল বয়ের কাজ করতেন। কিছুদিন মাথায় করে ভাত ব্রিক্রি করেছেন। এভাবে তো আর সংসার চলে না। তাই কক্সবাজারের একটি হোটেলে কিছুদিন বাবুর্চির কাজ করেন। এরপর চট্টগ্রামে। সেখানে অল্পদিনেই বেশ সুনাম অর্জন করেন। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে কাপাসিয়ায় এই খাবারের হোটেল প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুর দিকে টিনের চালা ছিল। বর্তমানে পাকা ভবন। তখন ২০ পদের ভর্তা বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হয় ১৫০ পদের।

তোতা মিয়া জানান, তাঁর দোকানে বাসি-পচা খাবার নেই। সব মসলা হাতের বাটা। রান্না হয় মাটির চুলায়। রান্না করেন ঘরের বউ-ঝিয়েরা। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় খানাপিনা। চলে রাত ২টা পর্যন্ত। দূর-দূরান্তের মানুষ ছুটে আসেন বাহারি রান্নার স্বাদ নিতে।

তোতা মিয়া বলেন, ‘আমি এখন অনেক ভালো আছি। আল্লাহর রহমতে আমার দোকান ভালো চলে। আমার এখানে মাছ-মাংসের চেয়ে ভর্তার আইটেমগুলা (পদ) বেশি জনপ্রিয়। এলাকার কাস্টমারের (ক্রেতা) চেয়ে দূরের কাস্টমারই বেশি। আমি প্রতিটা খাবার টাটকা রাখার চেষ্টা করি। বাজার থেকে মাছ কিনলে ফরমালিন থাকতে পারে। তাই বাজার থেকে না কিনে সরাসরি জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনি।’

নূর মোহাম্মদের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। অনেকের কাছে তোতা মিয়ার খাবারের দোকানের নাম শুনেছেন। তাই গত শনিবার দুপুরে ২০ জনকে নিয়ে খেতে চলে যান সেখানে। খাবার শেষে তিনি বলেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল হোটেলটিতে খাব। তাই নিজের পরিবারসহ বন্ধুবান্ধব সবাইকে নিয়ে নিয়ে চলে এলাম। এখানকার ভর্তা আইটেমগুলো খুব সুস্বাদু। খাবারের দামও খুব যে বেশি তা না। সমস্যা হলো দূরত্ব। আর রাস্তাও ভালো না।’

মাওনা শ্রীপুর থেকে খেতে এসে রাসেল শেখ বলেন, ‘আমি আজকেই প্রথম এসেছি। শুধু মানুষের মুখে নাম শুনেছি। তাই নিজে স্বাদ পরখ করতে এলাম।’

তোতা মিয়া জানান, তাঁর দোকানে রংবেরঙের খাবারের পাশাপাশি রয়েছে হাতে তৈরি আচার। বড়ই আচার, জলপাই আচার, মিক্সড আচার, চালতার আচার, তেঁতুল আচার ইত্যাদি। প্রথম আলো

Print