সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
মায়ানমার থেকে কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত দিয়ে আকস্মিক উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে ইয়াবা পাচার। দেশে প্রতিদিনিই বড় বড় ইয়াবার চালান ঢুকছে। গত দুই দিনে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বিজিবি ও পুলিশের অভিযানে পৃথক ৬ অভিযানে প্রায় ২১ লাখ ৮৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
পাশাপাশি ২ নারীসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে আকস্মিক মায়ানমার থেকে ইয়াবার চালান পাচারের ঘটনা বেড়ে গেছে। পাচার হচ্ছে বড় বড় চালান। ইয়াবার পাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ থেকে যেমন নিত্য পণ্য, জ্বালানি, ইউরিয়া সার ও বিষ্ফোরকের চালান পাচার হয়ে যাচ্ছে, তেমনি বিনিময়ে আসছে ইয়াবার চালানও। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, টাকার বিনিময়ে নয়-পণ্যের বিনিমিয়েই দুই দেশের সীমান্তে আকস্মিক বেড়ে গেছে চোরাই পণ্য পাচার।
মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, দেশটি থেকে এক প্রকারের অবরুদ্ধ রাখাইন রাজ্যে নিত্য পণ্যের খাবারের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। এ কারণে বেড়ে গেছে চাহিদাও।
চাহিদা পূরণের জন্য আরাকান আর্মি হয়ে পড়েছে মরিয়া। বাংলাদেশ থেকে পণ্যের চালান পাচারে চোরাচালানদের উৎসাহিত করতে আরাকান আর্মি তাদের ইয়াবার ডিপোর দরজা খুলে দিয়েছে। আগে যে ইয়াবার পিচ টাকার হিসাবে বিক্রি করা হতো, সেই ইয়াবা এখন বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে পয়সার হিসাবে। অর্থাৎ আরাকানে ইয়াবার মূল্যও এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে আরকান আর্মির নিয়োজিত কারবারিরা।
এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থা পণ্য পাচার রোধে তৎপরতাও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কড়াকড়ি আরোপ করার কারণে এপার থেকে তুলনামূলক পণ্য পাচার কমে যায়। তখনই ওপারের আরাকান আর্মি নানা কৌশল করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরাকান আর্মি পানির দামে ইয়াবা বাজারে ছেড়ে দেওয়ায় সীমান্তের মাদকের বাজারও হয়ে উঠেছে রমরমা।
কক্সবাজারের রামু বিজিবি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সীমান্তে বিজিবি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রকারের পণ্য পাচার করতে দেওয়া হবে না। অনুরুপ মায়ানমার থেকেও পাচার ঠেকানো হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে টেকনাফ সীমান্তের হীলা ইউনিয়নের নাফনদ তীরের এক স্লুইস গেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিচ ইয়াবার একটি বড় চালান। এ পরিমাণ ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি ৭৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। বিজিবির অভিযানকালে পাচারকারিরা নাফনদে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। অপরদিকে এদিন সকালে অপর এক অভিযানে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ১১ বিজিবির সদস্যরা এক অভিযান পরিাচালনা করে উদ্ধার করেছে ৩৯৫ লিটার অকটেন (জ্বালানি), ২০ বস্তা ইউরিয়া সার, ৪ বস্তা টিএসপি সার।
ব্যাটালিয়ান অধিনায়ক লে কর্নেল মো ফয়জুল কবির জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাছড়ি সীমান্ত দিয়ে রাখাইনে পাচারকালে এসব পণ্য আটক করা হয়। এসময় পাচারকারিরা পাহাড়ে গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
অপর এক অভিযানে রামুর ৩০ ব্যাটালিয়ানের বিজিবি সদস্যরা রামু উপজেলার খুনিয়া পালং ইউনিয়নের তুলাতলী নামক স্থান থেকে উদ্ধার করেছে আরো দুই লাখ পিচ ইয়াবা। প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবার চালানটি পাচারকালে বিজিবি দেখে পাচারকারিরা জঙ্গলে পালিয়ে যায়। একারণে তাদের আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে বিজিবি|
এর আগে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রংগিখালী নামক গ্রামের একটি মুরগী খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এসব ইয়াবার মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জনৈক নুরুল হোসাইনের মারিকানাধীন একটি মুরগির খামারের ভেতর থেকে ইয়াবার চালানটি উদ্ধার করা হয়। পলাতক খামার মালিককে আসামি করে এ ব্যাপারে কেনাফ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে টেকনাফের নাইটং পাড়া সংলগ্ন নাফনদে একটি নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে কোস্ট গার্ড সদস্যরা উদ্ধার করেছে এক লাখ ৪০ হাজার পিচ ইয়াবা। কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, নৌকাটিতে বোঝাই করে এ পরিমাণ ইয়াবা রাখাইন থেকে আনা হয়েছিল। রাতের অভিযানে পাচারকারিরা নদের পানিতে ঝাঁপিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। একই সময়ে কক্সাবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শীলখালী নামক স্থানে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার করেছে ৪২ হাজার পিস ইয়াবা। সেই সঙ্গে আটক করা হয়েছে দুই নারীসহ ৩ জন পাচারকারিকে|
অপরদিকে সাগর পথে মায়ানমার থেকে মাছ ধরার ট্রলার যোগে পাচার করা ৫ লাখ ইয়াবার চালান ধরা পড়েছে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানাধীন এলাকায়। প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের এ পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭, চট্টগ্রাম। এ সময় মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ৯ জনকেও আটক করা হয়। আটক হওয়া পাচারকারিদের মধ্যে ৪ জন রোহিঙ্গা এবং অপর ৫ জন কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা।









