সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
কচুরিপানার সমস্যা আগেও ছিল। তার মধ্যেও নৌযান চলছিল। আনা-নেওয়া করা হচ্ছিল আঞ্চলিক পণ্য। তবে দৃশ্যপট পাল্টে যেতে থাকে আজ সকাল থেকে।
ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে থাকে কচুরিপানার বহর। কিছুক্ষণের মধ্যে দেখা দেয় বিশাল জট। এতে অসহায় হয়ে পড়ে নৌযানগুলো।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে এমন দৃশ্যপট সৃষ্টি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মেঘনা নদীর বিশনন্দী ফেরিঘাট এলাকায়।

স্থানীয়রা জানায়, বাঞ্ছারামপুরের ওপারের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ঘাট। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, কসবা উপজেলা এবং কুমিল্লার তিতাস, হোমনা, মেঘনা, মুরাদনগর, হোমনাসহ তিন জেলার ১০ উপজেলার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এসব এলাকার ভেতর দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ হাজার মানুষের আসা-যাওয়া বলে জানান তারা।
স্থানীয়রা আরো জানায়, সকাল ৯টার মধ্যেই কচুরিপানার বিশাল জট সৃষ্টি হয়।
মাত্র ১৫ মিনিটের নদীপথ পাড়ি দিতে দুই ঘণ্টা সময় লাগে ইঞ্জিনচালিত নৌকায়। ফেরিতেও দেখা দেয় একই অবস্থা। নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীরাও পড়ে ভোগান্তিতে।
রবিবার সকাল ৯টায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কড়িকান্দি এলাকাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে গিয়ে দেখা যায়, তখনও জেটিঘাট পন্টুনসংলগ্ন মেঘনায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কচুরিপানার জট। এত ঘন জট বেঁধেছে যে, ওপর দিয়ে দিব্যি হেঁটে যাচ্ছে অনেকে।
মেঘনার মাঝখানে গিয়ে সেলফিও তুলছে তারা। কচুরিপানার জটের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই ঘাট দিয়ে চলাচলকারী শত শত যাত্রী ও নৌকার মাঝিদের। তাদের চোখে-মুখে অসহায়ত্বের ছাপ।
জেটিঘাটসংলগ্ন পন্টুনে থাকা নৌকার মাঝিরা বলেন, কচুরিপানার কারণে ১০-১৫ মিনিটের পথ এক-দুই ঘণ্টা সময় লাগে। আমরা কচুরিপানার কাছে জিম্মি।
নৌ রুটটি দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা বলেন, যাতায়াতের জন্য আমাদের প্রধান সমস্যা কচুরিপানা। মাত্র ১৫ মিনিট পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টাখানেক সময় পার করতে হয়।
এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। কচুরিপানা মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে নৌচলাচলে ব্যঘাত সৃষ্টি করছে। সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এর স্থায়ী সমাধান দরকার।









