সিল্কসিটিনিউ ডেস্ক:
হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের পরিচিত মুখ জোশুয়া ওংকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার শহরটির জাতীয় নিরাপত্তা আইনে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়।
২০২০ সালে চীন হংকংয়ে কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালু করে।
এর আগে শহরটিতে গণতন্ত্রের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল, যার মধ্যে কিছু বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। নতুন এই আইনের ফলে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে যুক্ত অনেক তরুণের প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যত বেআইনি হয়ে পড়ে। জোশুয়া ওং ছিলেন তাদেরই একজন।

হাইকোর্টের বিচারক উইলিয়াম ট্যাম জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণার সময় বলেন, ‘অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই শাস্তি দেওয়া উচিত।’
তবে জোশুয়া ওংকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড জাতীয় নিরাপত্তা আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের চেয়ে কম। বিচারক আরো বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিদেশি শক্তি বা বাইরের পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে ওং যে পরিকল্পনা ও কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন, তার প্রতি সমাজের তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা জরুরি।’
বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী জোশুয়া ওংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা আন্দোলনকর্মী নাথান ল এবং অন্যদের সঙ্গে মিলে চীনের বাইরের বিভিন্ন দেশ, সংস্থা ও ব্যক্তির কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এসব দেশ ও সংস্থা যেন হংকং সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, অবরোধ দেয় অথবা অন্য কোনো বৈরী পদক্ষেপ নেয়।
হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকরের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং পশ্চিমা ও এশিয়ার কয়েকটি দেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই আইনের আওতায় ওংসহ অন্যদের বিচারও তাদের নজরদারিতে রয়েছে।
এর আগে, ফেব্রুয়ারিতে চীনের কট্টর সমালোচক ও হংকংয়ের গণমাধ্যমের ধনকুবের জিমি লাইকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার এই বিচার আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়।
রায় ঘোষণার আগে আদালতে উপস্থিত দর্শকদের দিকে বারবার মাথা নেড়ে সাড়া দেন ওং।
সাজা কমানোর আবেদনের শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো হংকংয়ের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলিনি কিংবা চীনের পতন বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রচার চালাইনি।’ চীনের সরকার জানিয়েছে, হংকংয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালু করা হয়েছিল। শহরটির জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভ লি বলেন, জোশুয়া ওং কোনো ‘শত্রু’ নন। তবে তাঁকে আইন মেনে চলতে এবং ‘নিজের দেশকে বুঝতে’ শিখতে হবে।
বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে জোশুয়া ওংয়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে বেইজিং ক্ষুব্ধ ছিল। চীন তাঁকে বিদেশি শক্তির ‘অশুভ হাত’ হিসেবে অভিহিত করে।
বিচারক উইলিয়াম ট্যাম জানান, ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২৩ নভেম্বরের মধ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। সে সময় হংকং জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সেপ্টেম্বরের এক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ওংয়ের নেতৃত্বাধীন বিলুপ্ত রাজনৈতিক দল ডেমোসিস্টো ২০১৯ ও ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে হংকং ও চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বিভিন্ন বৈরী পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এ উদ্দেশ্যে দলটির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে লবিং করেন।
তারা তৎকালীন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এবং সিনেটর মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। এ ছাড়া হংকংয়ের সার্বভৌমত্ব নিয়ে গণভোট আয়োজনের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিল দলটি।
বিচারক ট্যাম বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার আগেই ওং ও স্বেচ্ছায় নির্বাসিত আন্দোলনকর্মী নাথান ল বিদেশে চীনের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেছিলেন। আইন কার্যকর হওয়ার পরও তারা সেই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং নিজেদের পরিকল্পনা ও কৌশলে পরিবর্তন আনেন। তবে সাজা নির্ধারণের সময় ওংয়ের দোষ স্বীকার, অনুশোচনা এবং কারাগারে থাকাকালে পড়াশোনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিচারক।









